গাজীপুর প্রতিনিধি : নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসাবে বুধবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কেন্দ্রীয়ভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের বিতরণী উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের শ্রীপুরেও জেলায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে মাওনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮০ জন যোগ্য নারীকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে তাদের হাতে এই ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বহুল প্রত্যাশিত এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে বিকেলে বদনীভাঙ্গা হান্নান জনসেবা সংঘ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি প্রান্তিক নারীদের হাতে কেবল কার্ড তুলেই দেননি, বরং এই ডিজিটাল কার্ডের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরাসরি তাদের সাথে কথা বলেন। অত্যন্ত সহজ ভাষায় তিনি গ্রামীণ নারীদের শিখিয়ে দেন কীভাবে কার্ডের ব্যালেন্স চেক করতে হয় এবং মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের আর্থিক হিসাব রাখা যায়। জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি প্রযুক্তির এমন পাঠ পেয়ে নারীদের মধ্যে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ কৃষিনির্ভর এই ওয়ার্ডটিতে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বেশ নিম্নমুখী। এই অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ সুপারিশে পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে এই ওয়ার্ডটিকে নির্বাচন করা হয়। এরপরই জেলা সমাজসেবা বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম শুরু করে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক কার্ডধারী নারী প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে পাবেন, যা সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংকিং বা সুবিধাজনক ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে।
এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: শাহরিয়ার নজির, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞা গাজীপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ মতিউর রহমান, সহকারী পরিচালক এ.টি.এম তৌহিদুজ্জামানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
