প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় গবেষণাবান্ধব ডুয়েট

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পিত উন্নয়ন, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে ৪টি অনুষদ, ১৪টি বিভাগ, ৩টি ইনস্টিটিউট ও ১টি রিসার্চ সেন্টার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন একটি আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও উদ্ভাবনমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ডুয়েটের এই অগ্রযাত্রায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় মাইলফলক হয়ে উঠেছে সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত “এম-ডুয়েট” প্রকল্প। এই প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারসমূহের আধুনিকায়ন, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং উন্নত ল্যাবরেটরি সুবিধা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর ফলে স্মার্ট ক্যাম্পাস, ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং অত্যাধুনিক গবেষণা কার্যক্রমে গতি আসবে, যা ডুয়েটকে নেতৃস্থানীয় আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও ডুয়েটে ইউজিসির হিট প্রকল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যা ডুয়েটকে গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

সম্প্রতি ডুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগ আইএবি অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই এন্ড ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নামে নতুন তিনটি বিভাগ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, সেমিনার ও কর্মশালার নিয়মিত আয়োজন জ্ঞান বিনিময় ও গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করছে। নতুন আবাসিক হল চালু, মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ এবং মেডিকেল সেন্টারে পেশাদার মনোচিকিৎসক নিয়োগ শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করছে।

শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে নিয়মিত ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও জব ফেয়ারের আয়োজন করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করছে। একইসঙ্গে চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডুয়েট তার অবস্থান সুদৃঢ় করছে। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম, ডিজিটাল সেবা, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করেছে।

বতর্মান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের ভিশনারি নেতৃত্বে ডুয়েটের এ অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডুয়েটকে আমরা একটি প্রযুক্তি-উদ্ভাবনী ও গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতের ঐতিহ্য, বর্তমানের সাফল্য এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে ধারণ করে সব মিলিয়ে ডুয়েট এখন কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি প্রকৌশল শিক্ষার মানসম্মত একটি ক্রমবিকাশমান কেন্দ্র।’

সার্বিকভাবে, ডুয়েট বর্তমানে একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।ডুয়েটের এই পরিকল্পিত অগ্রযাত্রা ও ধারাবাহিক উন্নয়নই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়টি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হওয়ার পথে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম

বিডি ওয়ার্ল ২৪ ডট কম (bdworld24.com)