দলমত নির্বিশেষে নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে নিরাপদ দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি সোমবার এ কথা বলেন। তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি টিভি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করা হয়।

তিনি এ অঙ্গীকার করে বলেন, বাংলাদেশের ৯০ ভাগের বেশি মানুষ মুসলমান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমান সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই কথাটি সন্নিবেশিত করেছিলেন। কিন্তু তাবেদার সরকার সংবিধান থেকে এই কথাটি বাদ দিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায় বিএনপি পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, এই কথাটি সংবিধানে পুনরায় সন্নিবেশিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক রাজনৈতিক আগ্রাসন চালানোর অপচেষ্টা হয়েছিল। অপরদিকে দেশবরেণ্য অনেক আলেম-ওলেমা সোচ্চার কন্ঠে বলেছেন কেউ কেউ স্রেফ দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করারও অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্বাসীদের প্রতি আহ্বান- কেউ যেন বিশ্বাসী মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি এমন একটি নিরাপদে বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ সময় কে কোন ধর্মের এটি কোন কারো জিজ্ঞাসা ছিল না। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধেও কে কোন ধর্মের, কার কি ধর্মীয় পরিচয় এটি কোন জিজ্ঞাসা ছিল না। আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং রীতি অনুযায়ী যার যার ধর্ম পালন করবেন। এটি একটি আধুনিক সভ্য সমাজের রীতি। সকল নাগরিকের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ধর্ম যার যার। নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।

তারেক রহমান বলেন, দেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিকামী জনগণ তাদের স্বাধীনতা হরণকারী স্বৈরাচার ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কোনটিকেই পছন্দ করে না। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি বজায় রেখেই যাতে আমরা সকলে মিলেমিশে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি এ লক্ষ্যেই স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ছিল-বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এই বাংলাদেশ আমাদের সবার আমরা সবাই বাংলাদেশী।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ। দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার এক মাহেন্দ ক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণের জাতীয় নির্বাচন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী এই ধারাবাহিক আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষকে ঘুম, খুন ও অপহরণ করা হয়েছিল। আয়নাঘর নামক এক বর্বর বন্দিখানা যেন হয়ে উঠেছিল জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান। তিনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাই গভীর সহানুভূতি এবং সহমর্মিতা। হতাহতদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।

তিনি বলেন, আমাদের দলীয় ইশতেহারে বলেছি জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের জন্য যথাসময় জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন করা হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারো আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোন কোন ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে অবলম্বন করে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম্যের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আবারো আমি আপনাদের সমর্থন চাই।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমি দেশ এবং জনগণের জন্য আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে আপনাদের সমর্থন এবং আপনাদের ভোট চাই।
সূত্র : বাসস

শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম

বিডি ওয়ার্ল ২৪ ডট কম (bdworld24.com)