• নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মবার্ষিকী পালন


    গাজীপুর প্রতিনিধি : নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামে নুহাশ পল্লীতে বুধবার ৭১তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তাদের দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিতসহ স্বজন এবং ভক্তদের নিয়ে নুহাশ পল্লীতে কেক কাটেন। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

    কথা সাহিত্যিকের জন্মদিন পালন উপলক্ষ্যে প্রথমে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১মিনিটে পুরো নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। নুহাশপল্লীতে ভাস্কর আসাদুজ্জামান খান তার নিজের করা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করেন। ভাস্কর আসাদুজ্জামান খান বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যার একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আজ স্যারের ৭১তম জন্মবার্ষিকী। তাই গাছের শেকড় দিয়ে তৈরি ৭১টি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ভাস্কর্য এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। এটি তার একক চতুর্থ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।

    হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে শরীক হতে সকাল থেকেই দূর দূরান্তের হুমায়ূন ভক্তরা নূহাশ পল্লীতে আসেন। তারা তাদের প্রিয় লেখকের সাহিত্য কর্ম নিয়ে কথা বলেন।

    কবর জিয়ারত শেষে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, এ স্কুলটির নাম শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ। হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিনে সবচে বড় যে সুখবর সেটা হচ্ছে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ স্কুলটি নিন্ম মাধ্যমিক পর্যন্ত এ বছর এমপিওভ‚ক্ত হয়েছে। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাওয়ার পর সাতটি বছর এ স্কুলটি বিভিন্ন ধরণের ক্রান্তিকালের সম্মুখিন হয়েছে। আমার সাধ্য খুবই ছোট কাঁধও খুব ছোট, এই ছোট কাঁধে যতটুকু সম্ভব দায়িত্ব নেবার চেষ্টা করেছিলাম। হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার কাছের মানুষেরা আমার পাশে ছিল, স্কুলের পাশে ছিল।

    ক্যান্সার হসপিটাল ও স্মৃতি যাদুঘর তৈরীর ব্যাপারে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, এটা খুবই দূর্ভাগ্য, ক্যান্সার হসপিটালের কথাটা বারবারই আমি বলে আসছি। এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমি প্রতিবারই বলি আমি করতে চাই। আমি একা পারছিনা। আমি দূর্ভাগ্যবান যে আমি একা এতবড় দায়িত্ব নিতে পারছিনা। একটু একটু করে আগানোর চেষ্টা করছি। ক্যান্সার হসপিটাল করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তারপর চেষ্টা করে যাব বড় বড় মানুষ গুলোর কাছে। ক্যান্সার হসপিটাল আর্থিক কারণে হচ্ছে না এ বিষয়টা ঠিক না। এটার উদ্যোগটা নিলে অবশ্যই একটু একটু করে হলেও অর্থের সংকুলান হয়ে যাবে। এখন উদ্যোগটা নেয়াই সবচে বড় ব্যাপার। যা আমি একা নিতে পারছিনা। হুমায়ূন আহমেদ যে ক্যান্সার হসপিটাল করতে চেয়েছিলেন সে স্বপ্নটা অনেক বড়। এখানে আসলেই পরিবারের সবাইকে একমত হয়ে শুরু করতে হবে, উদ্যোগটা নিতে হবে।

    আর হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি যাদুঘর কোন জায়গায় হবে সে জায়গাও নির্ধারণ করা আছে। হুমায়ূন আহমেদ যে নুহাশপল্লীতে শায়িত আছেন সেই নুহাশপল্লীর ভিতরেই একটি জায়গা মনে মনে পছন্দ করে রেখেছি। স্মৃতি যাদুঘরের জন্য জায়গা নির্ধারণ হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে এর একটি ডিজাইনও করা হয়েছে। যা তিনি নিজেই করেছেন। যাদুঘর করার ব্যাপারে পরিবারের সবার সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছি। বিষয়টি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সবাইকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা সম্মতি পাব এবং হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ শুরু হবে।

    ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন হুমায়ুন আহমেদ। দূরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরন করেন। এরপর গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করা হয়।

    Spread the love
    Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial