• টঙ্গীতে স্কুল ছাত্র খুনের প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার ৪


    গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গীতে স্কুল ছাত্র শুভ আহমদের খুনের মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১-এর সদস্যরা।টঙ্গী ও গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তাররা হলো- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার পাঠাকাটা এলাকার মহিউদ্দিনের ছেলে মৃদুল হাসান পাপ্পু ওরফে পাপ্পু খান (১৭), টঙ্গী পূর্ব থানার পাগার এলাকার বাসিন্দা মো: হাবিবুর রহমানের ছেলে সাব্বির আহমেদ (১৬), একই এলাকার নুরুল ইসলাম ওরফে খোকনের ছেলে রাব্বু হোসেন রিয়াদ (১৬) এবং আলতাব উদ্দিনের ছেলে নুর মোহাম্মদ রনি (১৬)।

    র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক মো: সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, শুভ স্থানীয় পাগাড় ফিউচার ম্যাপ স্কুলে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। শুভ স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিলেন।

    তিনি আরো জানান, ৭ জুলাই রাতে শুভ তার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চুল কাঁটার কথা বলে বাইরে যান। পরে ফেরার পথে রাত ১১টার দিকে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে পাপ্পু তার কিশোর গ্যাং সদস্যরা শুভকে ডেকে নিয়ে চাকু দিয়ে বুকে, পিঠে ও মাথায় আঘাত করে হত্যার পর তার লাশ পাগার মদিনা পাড়াস্থ জনৈক স্বপনের বাড়ির সামনে পাঁকা রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে যায়। পরে এলাকাবাসী লাশটি দেখে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনায় পরদিন নিহতের পিতা রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মৃদুল হাসান পাপ্পু (১৭) এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা শুভ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার এক দিন পূর্বে শুভর সঙ্গে পাপ্পুর নবগঠিত কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যদের ঝগড়া ও হাতাহাতি হয় বলে জানা যায়।

    এ গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলে নাম মাত্র পড়াশোনা করে, অধিকন্তু তারা দিনের বেশিরভাগ সময় দল বেধে হইহুল্লোড় করে বেড়ায়। তাদের বেশভূশা, চালচলন ও আচার-আচরনে সর্বদা একটি অশালীনভাব দেখা যায়। এসব গ্যাং গ্রুপের মধ্যে মাঝে মধ্যেই ছোট খাটো বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে।

    এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

    গ্রেপ্তারকৃত পাপ্পু’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে-ও ফিউচার ম্যাপ স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। ৬ মাস পূর্বে সতীর্থ শুভর সঙ্গে পাপ্পুর পরিচয় হয়। সে জানায় যে, মূলতঃ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে শুভকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ঘটনার দিন তারা শিক্ষা সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় গ্রন্থাগার ও জাতীয় জাদুঘরে যায়। শিক্ষা সফর শেষে ফেরার পথে পাপ্পু ও তার বান্ধবী একই সিটে বসলে শুভ মুঠোফোনে তাদের ছবি তোলে এবং অন্য সবাইকে দেখিয়ে ঠাট্টা করতে থাকে। আকষ্মিক ছবি তোলাতে পাপ্পু শুভর উপর ক্ষুদ্ধ হয় এবং তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। এরই জের ধরে পাপ্পু, সাব্বির, রাব্বু ও রনি তাদের গ্রুপের সদস্যকে নিয়ে ঠাট্টা-অপমানের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে এবং পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ৭ জুলাই রাত ১০টার পর শুভকে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নেয়। ভিকটিমকে ঘটনাস্থনে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করার সময় সাাব্বির ও রাব্বু’র নিকটে থাকা সুইস গিয়ার চাকু দিয়ে ভিকটিমের বুকে ও পিঠে আঘাত করে এবং রনি সাব্বিরের নিকট হতে চাকু নিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করে। এসময় ভিকটিম দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাইলে পাপ্পু তাকে পিছন থেকে ধাওয়া করে পিঠে আঘাত করলে সে মাটিতে পড়ে যায়।

    গ্রেপ্তারকৃত সাব্বির আহমেদ জানায়, সে স্থানীয় হাজী সাইদ ল্যাবরেটরী স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। তার পিতা পেশায় একজন রড, বালি, সিমেন্ট এর কন্ট্রাক্টর এবং মাতা গৃহিনী। সে চার ভাই-বোনে মধ্যে সবার ছোট। সে তাদের নবগঠিত গ্যাং গ্রুপের একজন অন্যতম সদস্য। সে মূলতঃ তাদের গ্রুপের সদস্যের অপমানের প্রতিশোধ নিতেই এই হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল। হত্যাকান্ডের দিন দুপুর বেলা টিফিন পিরিয়ডে তারা এই পরিকল্পনা করেছিল বলে জানায়।

    গ্রেপ্তার রাব্বু হোসেন রিয়াদ জানায় যে, সে স্থানীয় ফিউচার ম্যাপ স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। সে-ও ওই গ্রুপের সদস্য। ভিকটিমের সাথে ইতিপূর্বে তার টাকা লেনদেনের বিষয়ে বিরোধ হয়েছিল। এছাড়াও একটি মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল ।

    গ্রেপ্তারকৃত নূর মোহাম্মদ রনি জানায়, সে-ও ফিউচার ম্যাপ স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। তার পিতা একজন লিবিয়া প্রবাসী এবং মাতা গৃহিনী। সে দুই ভাই-বোনে মধ্যে বড়। সে এই গ্যাং গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। সে পাপ্পুর কথামতো এলাকায় আধিপত্য বিস্তাারের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল।

    Spread the love
    Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial