• গাজীপুরে রক্তরোগ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান


    গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে রক্তরোগ থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া ও ব্লাড ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান শুক্রবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নাটমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়।

    ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে রোগ সনাক্তকরণসহ রক্তদান, রক্তের গ্রুপ এবং ক্যান্সার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: মো: আসাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: সৈয়দ মো: মঞ্জুরুল হক, স্বাচিপের জেলা শাখার সভাপতি ডা: আমীর হোসাইন রাহাত, ডা: সালাহউদ্দিন শাহ, ডা: শফিকুর রহমান, ডা: মো: লিয়াকত হোসেন, সাংবাদিক কাজী মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফিলিয়া রোগের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার সালাউদ্দিন শাহ।

    পরে অনুষ্ঠানে অতিথিদের ক্রেস্ট ও উপস্থিত কয়েকজন রোগীকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

    আয়োজক সশ্লিষ্টরা জানান, রক্তের তিনটি জটিল রোগের নাম থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া এবং ব্লাড ক্যান্সার। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এসব রোগ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকার কারনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) একটি বংশগত রক্তের রোগ। রক্তের মধ্যে যে তিনটি কণিকা থাকে তার অন্যতম হচ্ছে লোহিত রক্তকণিকা যার মধ্যে থাকে হিমোগ্লোবিন, যা রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে কোষগুলিকে সক্রিয় রাখে। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণ লোহিত রক্তকণা উৎপাদন হয় না। বাবা অথবা মা, অথবা বাবা- মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়ার জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি ১৪ জনে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক এবং প্রতিবছর প্রায় ১০৪০ জন শিশু বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং প্রায় ৬৪৪৩ জন শিশু হিমোগ্লোবিন ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই রোগীদেরকে প্রায় নিয়মিত রক্ত পরিসঞ্চালন করে বেঁচে থাকতে হয়। হিমোফিলিয়া একটি বংশানুক্রমিক জিনগত রোগ। একে X linked recessive disorder বলা হয় । এই রোগে রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে সমস্যা হয় তাই শরীরে কোথাও কেটে গেলে আর রক্তপাত বন্ধ হয় না। বিশ্বে প্রতি দশ হাজারে একজন হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত হয় এবং সেই হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৬০০০ রোগী আছে। আবার, রক্তকোষের ক্যান্সারকেই ব্লাড ক্যান্সার বলে। দিন দিন যে হারে ব্লাড ক্যান্সার বাড়ছে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ এবং অনুন্নত দেশে এসব রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

    কারণ রেডিয়েশন, অতিরিক্ত এক্সরে, বেনজিন এবং বংশগতভাবে এ রোগ ছড়ায়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের এসব রোগ সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাই নাই। ফলে বেড়েই চলেছে এসব রোগের প্রকোপ।

    থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, ব্লাড ক্যান্সার, মাইলেমাসহ বিভিন্ন প্রকার রক্ত রোগের উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন ২০০২ সালের জানুয়ারীতে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা উত্তরায় অবস্থিত এই ফাউন্ডেশন অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের স্বল্পমূল্যে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এবং যারা একেবারে অসমর্থ্য, তাদের ফাউন্ডেশন থেকে অনুদানের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশনের রয়েছে সাতটি সিস্টার কনসার্ন। সেগুলো হলো-(১) ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন অব থ্যালাসেমিয়া এন্ড হাসপাতাল (২) ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন অব হিমোফিলিয়া এন্ড হাসপাতাল, (৩) ল্যাব ওয়ান ব্লাড ব্যাংক, (৪) ল্যাব ওয়ান ব্লাড ডোনার ক্লাব (৫) ল্যাব ওয়ান সাপোর্ট গ্রুপ (৬) ল্যাব ওয়ান সাংস্কৃতিক ফোরাম (৭) ল্যাব ওয়ান বোন ম্যারো ডোনার ক্লাব।

    ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশনের সকল সিস্টার কনসার্ন মিলিয়ে প্রায় ২৫০০ রেজিস্ট্রেশনকৃত রোগী আছে যার স্বল্পমূল্যে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। রক্তের রোগগুলো কি, এসব রোগের কারণ, প্রতিকার বা প্রতিরোধের উপায় এখনও মানুষের অজানা। তাই এসব রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি এসব রোগ প্রতিকার করার জন্য জনসচেতনতা । হিমোফিলিয়া রোগীদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয় এবং প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয় যা সবার পক্ষে সহজসাধ্য নয়। তাই অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের ল্যাব ওয়ান ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

    Spread the love
    Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial