• এবার ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা : সেতুমন্ত্রী


    গাজীপুর প্রতিনিধি : সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশে এখন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। আরো কিছু কাজ আমাদের বাকি আছে। আমরা এ কাজগুলোর আরো অনেকগুলো আগামি বছরের মধ্যে শেষ করতে পারব। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে মেট্ট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সিটিতে যানজট, দূর্ভোগ এখনও রয়ে গেছে। ঈদের পর এসব নিয়ে আমরা মিটিং করব। যানজট নিরসনের স্বল্প মেয়াদী, দীর্ঘ মেয়াদী কিছু পদক্ষেপ আমরা নেব। সব স্টেক হোল্ডারদের মতামত গ্রহণ করে ঢাকার জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক করার জন্য কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করবো। এরমধ্যে আন্ত:জেলা এবং ঢাকা ও এর আশেপাশে গণপরিবহণে বিআরটিসির নতুন গাড়িগুলো স্বস্তি এনেছে। ঢাকা সিটিতে আধুনিক গণপরিবহণের যে উদ্যোগ মেয়র আনিসুল হক নিয়েছিলেন, সে উদ্যোগটিও আবার নতুন করে নেয়া হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে। যাতে ঢাকায় আমরা জনগণকে আধুনিক গণপরিবহণ উপহার দিতে পারি এবং এখন মাঝে মাঝে যে দূর্ভোগ হয়, সেই দূর্ভোগের অবসান ঘটানো যায়।

    মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে মহাসড়ক পরিদর্শনে গিয়ে সাসেক প্রকল্পের গাজীপুর মহানগরের বাইমাইল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সেতুমন্ত্রী ওইসব কথা বলেন। এ সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, সওজের ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর, বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মো. সানাউল হক, সাসেক প্রকল্পের পরিচালক আবু ইসহাক, সওজের ঢাকা জোনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ সাইফউদ্দিন প্রমূখ।

    সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, আমি আশা করি বিআরটি প্রকল্প প্রথম দিকে ঢিমেতালে চলছিল। এডিপির ফান্ডিংয়ে যে প্রজেক্টটি চলছে। সেখানে কন্ট্রাক্টরের কিছু সমস্যা ছিল। এখন বিআরটি প্রজেক্ট পিক-আপ নিয়েছে। তাদের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ তথা উত্তর জনপথ সা নের দিনগুলোতে যাতায়ত ব্যবস্থা অনেক স্মোথ হবে, অনেক সহজ হবে, অনেক নির্বিঘ্ন হবে। অনেক সময় আজকে কমে যাচ্ছে। আজকে এদিকেও ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষের যে উদ্বেগ ছিল, যে দূর্ভোগ ছিল তার অবসান হয়েছে। আজকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চার ঘন্টায় যাওয়া যায়। গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ, গাজীপুর থেকে উত্তর জনপদের জেলাগুলোর দিকে যে যাত্রা, সে যাত্রা ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক যাত্রা। আমরা জনগণকে উপহার দিতে পেরেছি এবং এ প্রকল্পের যে দুইটি উড়াল সেতু, রেলওভার পাস, অনেকগুলো সড়ক সেতু প্রধানমন্ত্রী জনগনকে ঈদ উপহার হিসেবে দিয়েছেন। এ ছাড়া কাঁচপুর, মেঘনা, ঘোমতি দ্বিতীয় সেতু উদ্বোধনীর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার জনগণের এবার ঈদযাত্রাকে নির্বিঘœ এবং স্বস্তিদায়ক করেছেন। এটা দেশবাসি উপলদ্ধি করছেন এবং প্রশংসার সঙ্গে সবাই বিষয়টি নিয়েছেন।

    বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি থাকলে এবারের ঈদ হবে সবচে বেদনাদায়ক বিএনপির এমন বক্তব্যের বিয়য়ে মন্ত্রী বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টা সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার। আর যে মামলায় তিনি কারাবন্দি এবং সাজা প্রাপ্ত সেই মামলা, বর্তমান সরকারের ফাইল করা কোন মামলা নয়। এ মামলা বর্তমান সরকারের আমলে হয়নি। সাবেক তত্ববধায়ক সরকারের আমলে এ মামলা হয়েছিল এবং এটা আদালতের বিষয়। তারা লিগ্যাল ব্যাটলে ফেল করেছেন, তারা, বিএনপির আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে তিনি নির্দোষ। এছাড়া তার মুক্তির জন্য বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। এজন্য তারা বার বার আন্দোলনের যে ডাক দিয়েছেন তাতে জনগণ সাড়া দেয়নি। এটাতো আমাদের দোষ নয়। তারা বেগম জিয়াকে লিগ্যাল ব্যাটলেও মুক্ত করতে পারেনি, রাজপথের আন্দোলনেও বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারেননি। এটাতো তাদের ব্যর্থতা। এখানে সরকারের কোন ব্যর্থতা নেই।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিানা জাপান, সৌদি আরব সফর শেষে বর্তমানে ফিনল্যান্ডে আছেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    পরে মন্ত্রী সম্প্রতি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার পরিদর্শন করেন।

    Spread the love
    Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial