• শ্রীপুরে বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে শ্রমিক বিক্ষোভ


    স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের শ্রীপুরে এক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে সোমবার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র বিভিন্ন মালামাল ব্যাপক ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করেছে।

    পুলিশ, আন্দোলনরত শ্রমিকরা ও স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার উজিলাব এলাকাস্থিত ইস্টিম ওর্য়্যাস লিমিটেড (ঊংঃববস ডবধৎং খঃফ) কারখানায় প্রায় সাড়ে ৭’শ শ্রমিক কর্মরত আছে। দীর্ঘদিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের তাদের পাওনাদি অনিয়মিতভাবে দিচ্ছে। এছাড়াও চাকরিচ্যুত শ্রমিকদেরকে শ্রম আইন অনুযায়ী ভাতা পরিশোধ করছে না। শ্রমিকরা তাদের পাওনা গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেতন ভাতা পরিশোধের একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করলেও পরিশোধ করেনি। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। সর্বশেষ গত ২৫ অক্টোবর শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের কথা থাকলেও ওইদিন পরিশোধ না করে পরিশোধের পরবর্তী তারিখ সোমবার (৫ নভেম্বর) নির্ধারণ করে ঘোষণা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এদিন সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গিয়ে কারখানার সামনে পুলিশের অবস্থান দেখতে পেয়ে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শ্রমিকরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবী জানালে কর্তৃপক্ষ কোন উত্তর না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি ও তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানায় পুলিশ মোতায়েন ও বেতন-ভাতা পরিশোধ বিষয়াদি নিয়ে মালিক পক্ষের কর্মকর্তারা বাকবিতন্ডায় জডিয়ে পড়ে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানায় হামলা চালায় এবং মেশিনপত্র ও দরজা জানালার কাঁচসহ কারখানার বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। এসময় কারখানার মূল গেইট বন্ধ করে দিলে বেশ কয়েক শ্রমিক গেইটের উপর দিয়ে টপকে কারখানা হতে বাইরে বেরিয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তাদের সঙ্গে কিছু বহিরাগতরা অংশ নেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে দুপুর ২ টার পর কারখানার মূল গেইট খুলে দিলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অবশিষ্ট শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বাইরে বেরিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিকেল পৌণে তিনটার দিকে পার্শ্ববর্তী কেওয়া নতুন বাজার এলাকায় ঢাকা-শ্রীপুর সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে সড়কের উভয়দিকে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অবরোধকারীদের সড়কের উপর থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় দুই ঘন্টা পর বিকেল পৌণে ৫টার দিকে ওই সড়কে যান চলাচল শুরু হয়। শ্রমিকরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবীতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারখানা এলাকায় অবস্থান করছিল।

    কারখানার অপারেশন শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রাজিব কুরি জানান, সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ দিনের বেতন বকেয়া রয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধের জন্য সোমবার (৫ নভেম্বর) তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত এদিন সকালে কারখানায় ঢুকেই শ্রমিকেরা কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজার) রেজাউল করিমের সঙ্গে পুলিশের উপস্থিতি ও বকেয়া বেতন নিয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিদ্যুৎ চালিত সেলাই মেশিন ও কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের গ্লাস, ফুলের টবসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে টাকা নিয়ে আসার পর এদিন শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করার কথা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তবে নির্ধারিত দিন সোমবার শ্রমিকদের পরিশোধ করা হবে কি-না এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

    গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান ও ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের আহবানে নিরাপত্তার জন্য সকাল ৮টা থেকেই কারখানার বাইরে শিল্প পুলিশ টহল দিচ্ছিল। ভেতরে ভাংচুরের খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বের করে দিয়ে কারখানা মূল গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের দাবীতে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করে।

    Spread the love