• গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ডাকাতির রহস্য উৎঘাটন


    গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভূবনেরচালা এলাকায় ঢাকা-কাপাসিয়া-কিশোরগঞ্জ সড়কে গরু ভর্তি পিকআপ দুর্ধর্ষ ডাকাতির রহস্য উম্মোচিত হয়েছে। ফিল্মি ষ্টাইলে ডাকাতির এই ঘটনার প্রায় তিন মাস পর রহস্য উৎঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ৭ ডাকাতকে। উদ্ধার করা হয়েছে পিকাপ ও লুন্ঠিত মালামাল। সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে কাপাসিয়া থানা পুলিশ।

    কাপাসিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক জানায়, গত ১৯ আগস্ট রাতে ওই সড়কে ডাকাতরা অন্য একটি পিকআপ দিয়ে ৪টি কোরবানীর গরু ভর্তি একটি পিকআপের গতিরোধ করে। পরে গাড়ির ড্রাইভারসহ ২ জন গরু ব্যবসায়ীর হাত-পা-মুখ বেঁধে মারধর করে নগদ ৮৫ হাজার টাকা, ২ টি মোবাইল সেট, ৪ টি গরুসহ পিকআপ ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। পরদিন কাপাসিয়া থানায় একটি ডাকাতি মামলা নেয়া হয়। মামলা তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয় ইন্সপেক্টর অপারেশন মনিরুজ্জামান খানকে।

    কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মনিরুজ্জামান খান জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহরের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করি। জানতে পারি ঘটনার পর পরই ডাকাতরা পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে দেশের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। এ ঘটনার পর দেশের রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, সাভার, আশুলিয়া, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গে গত ১৫ দিন অভিযান চালানো হয়। প্রথমে ১০ অক্টোবর বাজিতপুর এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার ও এক ডাকাতকে ধরতে সক্ষম হই। উম্মোচিত হতে থাকে ডাকাতির মূল রহস্য। গত ২ নভেম্বর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ৩ ডাকাতকে। তাদের স্বীকারোক্তিতে লুন্ঠিত পিকআপ ও মালামাল উদ্ধার করা হয়। ২ জনকে গত শনিবার কালিয়াকৈর থানার তেলিরচালা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি একজন হাজতে থাকায় তাকে শ্যোন এরেষ্ট দেখানো হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলো, লালমনিরহাট জেলার রেজাউল (৪৫), গাইবন্ধা জেলার ফিরোজ (২৪) সুমন@ শামিম @ ধুনদুল (১৮) ও রানা @ আনোয়ার (২০), রংপুর জেলার সাবু @ এরশাদ (২৬), কিশোরগঞ্জ জেলার ফারুক (৩৫) এবং সেলিনা (৪০)। এদের মধ্যে ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে গাজীপুর আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধী দিয়েছে। এরা প্রত্যেকই একাধিক ডাকাতি মামলার আসামি, কারো কারো বিরুদ্বে ১০ থেকে ১২টির অধিক মামলা রয়েছে। আসামীদরে গাজীপুর আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

    Spread the love