• ব্রেকিংনিউজ: আয়নাইজার প্রযুক্তির এসি আনলো ওয়ালটন     ::     শ্রীপুরের অভ্যন্তরীন সড়কের বেহাল অবস্থা     ::     লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন খালেদা জিয়া     ::     টিভি রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির ঘোষণা ওয়ালটনের     ::    
    14_10_2016 Egg day

    ২০১৭ সাল থেকে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ পালন করা হবে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী


    image_print

    বিডিওয়ার্ল্ড রিপোর্টার : বাংলাদেশের প্রায় ২৪ শতাংশ নারী দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির সমস্যায় ভুগছেন আর অপুষ্টির শিকার মায়েদের কারণে ৯২ লাখ শিশু রক্ত স্বল্পতায় ভুগছে। প্রচুর শিশু খর্বাকায়, কম ওজনের এবং শারীরিকভাবে দূর্বল হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে। শুধু তাই নয় পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুরা রাতকানা, রক্ত স্বল্পতা, হাড্ডিসার হয়ে যাওয়া ইত্যাদি রোগে ভোগে। অপুষ্টির এ অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব ডিম দিবসে’র এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন- অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে হলে সবার আগে মা ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে হবে। সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. প্রিয় মোহন দাস এবং পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. সুভাষ চন্দ্র দাস। সঞ্চালক ছিলেন বিপিআইসিসি’র কোষাধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলাম।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, সরকার মাথাপিছু ডিমের কনজাম্পশন বছরে ১০৪টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন-মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এ খাদ্যগুলোর জন্য আমরা বিদেশের উপর নির্ভরশীল হতে চাইনা। দেশীয় পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থেই ডিম (টেবিল এগ) আমদানি নিষিদ্ধ করে রেখেছে সরকার। মন্ত্রী বলেন- দেশ থেকে অপুষ্টি দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। দুধের ঘাটতি পূরণে সরকার বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৪৫ শতাংশ আসছে পোল্ট্রি খাত থেকে। ২০১৭ সাল থেকে ‘প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ’ পালনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

    ডিমকে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অজয় কুমার রায় বলেন-ডিমের মত এত স্বল্পমূল্যের প্রাণিজ আমিষ দ্বিতীয়টি নেই। মা, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের জন্য ডিম একটি আদর্শ খাদ্য। মেধাবী জাতি গড়তে হলে ডিম খাওয়ার পরিমান আরও বাড়াতে হবে।

    বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, প্রতিদিন একটি করে ডিম খেলে অপুষ্টি অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। তিনি বলেন, কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের। সারাবছর যেন নায্য মূল্যে খামারিরা ডিম বিক্রি করতে পারেন সেজন্য সরকারের সহযোগিতা চান মসিউর। উৎপাদন খরচ কমাতে ফিডে ব্যবহৃত কাঁচামালের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ডিমের প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি। আমাদের দেশে এখনও ডিম মূলত: সেদ্ধ কিংবা রান্না করে খাওয়া হয়। কিন্তু বিদেশে নানাভাবেই ডিম খাওয়া হচ্ছে। লিকুইড এগ ছাড়াও, পাউডার এগ পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে মুরগির ফারদার প্রসেসিং শুরু হয়েছে। ডিমের ফারদার প্রসেসিংও অচিরেই শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মসিউর।

    সূচনা বক্তব্যে বিপিআইসিসি’র সহ-সভাপতি সামসুল আরোফিন খালেদ বলেন, ২০১৪ সালে সারাবিশ্বে মাথাপিছু প্রায় ১৭৯টি ডিম কনজিউম হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফ.এ.ও এর এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে উন্নয়নশীল দেশে ১৯৯৭/৯৯ সালে বিশ্বে মাথাপিছু ডিমের কনজাম্পশন যেখানে ছিল ৬.৫ কেজি, ২০৩০ সালে তা হবে প্রায় ৮.৯ কেজি। উন্নত বিশ্বে তা ১৩.৫ কেজি থেকে ১৩.৮ কেজিতে উন্নীত হবে। এফ.এ.ও এর অপর এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ব জুড়ে ডিমের উৎপাদন দাঁড়াবে প্রায় ৮৯.৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন যার মধ্যে প্রায় ৬৯ মিলিয়ন মেট্রিক টনই উৎপাদন করবে এশিয়া। জনাব খালেদ বলেন বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় সোয়া ২কোটি ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ দৈনিক উৎপাদিত হবে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ডিম। তিনি বলেন, ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলে’ কাঙ্খিত অপুষ্টি ও দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সাথে কাজ করতে চায় পোল্ট্রি শিল্প।

    14_10_2016 Egg day 2

    সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মৎস্য ভবন পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য পোল্ট্রি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাসহ মোট প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। এর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ বিভাগে পোল্ট্রি শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুরসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও অনাথ শিশুদের মাঝে এক লাখ ডিম বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। দেশের ৬৪টি জেলায় এক লক্ষ পোষ্টার লাগানো হয়। মোবাইল ফোনের ক্ষুদ্র বার্তার মাধ্যমে ৩০ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারির কাছে ডিম দিবসের বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়।