• স্কাউটদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাম্বুরী ময়দান


    গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের মৌচাকে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরী ময়দানে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভ‚টান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্থান, ব্রুনাই দারুস সালাম, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফিলিপাইনের স্কাউট ও কর্মকর্তা ইতিমধ্যে হাজির হয়েছে। স্কাউটদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে জাম্বুরী ময়দান। মৌচাকে পৌঁছানোর পর পরই তাদের জন্য নির্ধারিত তাঁবু বুঝে নিয়ে তাঁবু এলাকা গুছিয়ে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছে। একদিকে তাঁবু এলাকা গোছানো অন্যদিকে রান্না ও স্কাউট কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রস্ততি।

    ১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরীর থীম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যোগ্য নেতৃত্ব উন্নত দেশ’। আগামী ১০ মার্চ রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রপতি ও চীফ স্কাউট মোঃ আবদুল হামিদ ১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরীর উদ্বোধন করতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

    প্রথম দিনে অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি বাংলাদেশে গার্ল ইন স্কাউট এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। জাম্বুরীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এরিনায় বাংলাদেশে গার্ল ইন স্কাউট এর ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার (গার্ল ইন স্কাউটিং) সুরাইয়া বেগম।

    উল্লেখ্য, স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ষ্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অফ গিলওয়েল ২০ জন সদস্য নিয়ে ১৯০৭ সালে স্কাউট আন্দোলন শুরু করার পরে মেয়েদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে তাঁর বোন এ্যাগনেস ব্যাডেন পাওয়েল মেয়েদের জন্য গার্ল গাইড আন্দোলন শুরু করেন। এরপর তাঁর স্ত্রী অলিভ লেডী ব্যাডেন পাওয়েল গাইড আন্দোলনকে ফলপ্রসূ করে তোলেন। স্কাউটিংয়ের গতিশীল প্রোগ্রাম ও ট্রেনিংয়ে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি সময়ের দাবী হয়ে দাড়ায়। ১৯৯০ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৩২তম ওয়ার্ল্ড স্কাউট কনফারেন্সে স্কাউটিং এ মেয়েদের অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৯১ সাল থেকেই বিশ্বের বহু মুসলিম দেশসহ ৭৮টি দেশে গার্ল-ইন-স্কাউটিং প্রচলিত আছে। ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় কাউন্সিলের ২১তম সভায় বাংলাদেশ স্কাউটসের গঠন ও নিয়ম এর সংশোধনীর মাধ্যমে গার্ল ইন স্কাউটিং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। ১৯৭২ সালে ৫৬ হাজার ৩শত ২৫ জন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ স্কাউটস তার যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের স্কাউট সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষ, আর গার্ল ইন-স্কাউটিং এর সদস্য সংখ্যা মোট সদস্য সংখ্যার ২০%।

    বাংলাদেশ স্কাউটসের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ ও মার্কেটিং) মো: মশিউর রহমান জানান, জাম্বুরীতে বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা থেকে ১০০৩ টি স্কাউট দলের ৯০২৭ জন স্কাউট ও গার্ল ইন স্কাউট অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও ভারত, নেপাল, ভ‚টান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ব্রুনাই দারুস সালাম, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফিলিপাইন এর স্কাউট ও কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকসহ ১১ হাজার স্কাউট ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করবেন। বিশ্ব স্কাউট সংস্থার সেক্রেটারী জেনারেল আহমেদ আল হেন্দাউই, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল স্কাউটসের পরিচালক জে আর পাঙ্গিলিনান এই জাম্বুরীতে অংশ নেবেন।

    জাম্বুরী হচ্ছে স্কাউটদের মিলন মেলা। জাতীয় জাম্বুরী প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর আয়োজন করা হয়। ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক রোভার স্কাউট জাম্বুরী ময়দানে এসে পৌঁছেছেন। শুক্রবার সকালে আসেন দেশ বিদেশের স্কাউট ও গার্ল ইন স্কাউট সদস্যরা। এই জাম্বুরীতে স্কাউটরা ৭ দিন অবস্থান করে শিক্ষামূলক বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। মোট ১৪টি ভেঞ্চার ও কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে আকর্ষণীয়, উদ্দীপনামূলক, শিক্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম সাজানো হয়েছে যা ভিলেজ, সাব ক্যাম্প ও কেন্দ্রীয়ভাবে বাস্তবায়িত হবে। জাম্বুরীর ১৪টি ভেঞ্চার যথাক্রমে : ভোরের পাখি, তাঁবু কলা, অবস্ট্যাকল, শিক্ষা সফর, হাইকিং, করি ও শিখি, পাইওনিয়ারিং ও প্রাথমিক প্রতিবিধান, এসডিজি ও জিডিভি, ফান এন্ড গেম, পাশের বাড়ী, ফেইথস এন্ড বিলিফস, সাধারণ জ্ঞান, তাঁবু জলসা, গ্রীন ডিবেট। এছাড়াও জাম্বুরী প্রোগ্রামে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকবে: উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ভিলেজ ভিত্তিক তাঁবু জলসা, মহা তাঁবু জলসা, সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, টপ অ্যাচিভার’স গ্যাদারিং, উডব্যাজার’স গ্যাদারিং, রোভার ভলান্টিয়ার’স গ্যাদারিং।

    বাঙালি জাতির পিতাকে বর্তমান প্রজন্মের নিকট পরিচিত করার জন্য জাম্বুরীর মূল এরিনার নামকরণ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামে। জাম্বুরীতে ৪টি ভিলেজ থাকবে। ৪টি ভিলেজের নামকরণ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঘনিষ্ট সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের নামে।

    ৪টি ভিলেজের অধীনে ১২টি সাব ক্যাম্প কবি, সাহিত্যিক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নামে নামকরণ করা হয়েছে : রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, জসিম উদ্দিন, সুফিয়া কামাল, ইমরান নূও, জীবনানন্দ দাশ, এম মহবুবুজ্জামান, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, হুমায়ুন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক ও শামসুর রাহমান।

    ১৪ মার্চ রাতে শেষ হবে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলে মেয়ের এই মিলন মেলা এবং ১৫ মার্চ সকালে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে ফিরে যাবে।

    Spread the love
    Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial