• ব্রেকিংনিউজ: প্রধানমন্ত্রী আট বছর পর ফরিদপুরে যাচ্ছেন, জেলাবাসীর প্রত্যাশার অনেক     ::     এইচটি ইমামের প্রস্তাব : প্রতি বছরের ২৫মার্চ রাতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা যেতে পারে     ::     প্রস্তুত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ     ::     ফরিদপুরের গণহত্যা-১৯৭১     ::     গরমে শীতল যন্ত্রের চাহিদা বাড়ছে, প্রস্তুত ওয়ালটন     ::    
    09_01_2017-Khulna-Bandasso

    সুন্দরবনের বনদস্যুরা আত্মসমর্পণ করে ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনে


    image_print

    খুলনা প্রতিনিধি : সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনীগুলোর মধ্যে বাড়ছে আত্মসমর্পণের প্রবণতা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই র‌্যাবের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে ১৬৪টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের ৮ বনদস্যু বাহিনীর ৭২ জন সদস্য। যাদের প্রত্যেকে সরকারিভাবে নগদ ২০ হাজার টাকা ও আইনি সহয়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে আইনি সহয়তা পেয়ে ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্তি পেয়েছে ৪৮ জন। জামিনে মুক্তি পাওয়া পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এদের সবাইকে সার্বিকভাবে সহয়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    র‌্যাব-৮ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার জেলে-বনজীবীদের কাছে এক সময়ে মূর্তমান আতংক ছিল এসব বনদস্যু বাহিনীগুলো। মুক্তিপণের দাবিতে জেলে অপহরণ ও ইলিশ মৌসুমে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়াই ছিল এসব বনদস্যুদের প্রধান কাছ। এক সময়ে সুন্দরবনের জেলে অপহরন ও বনদস্যুদের নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর নড়ে-চড়ে বসে র‌্যাবসহ আইন-শৃখলা বাহিনীর সদস্যরা। সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। শুরু হয় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান। এসব অভিযানে শুধু ২০১৬ সালেই নিহত হয় ৬ বনদস্যু। আর সুন্দরবনে একের পর এক বনদস্যু নিহত হবার পর সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা কমে আসতে শুরু করে। এক সময়ে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বনবিভাগের সম্মিলিত অভিযানে কোনঠাসা বনদস্যু বাহিনীগুলো দস্যুরা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়। যার ধারাবাহিকতায় এক সময়ে সুন্দরবন দাঁপিয়ে বেড়ানো ৮টি বনদস্যু বাহিনীর ৭২ জন সদস্য ১৬৪টি আগ্নয়াস্ত্র ৮ হাজার ৬শ ৩৬ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে র‌্যাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠনিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

    র‌্যাব-৮ এর উপ অধিনায় মেজর আদনান কবির জানান, গত ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারী সুন্দরবনে চাদপাই রেঞ্জের চরপুটিয়া খালে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় কুখ্যাত বনদস্যু মজনু বাহিনীর উপ-প্রধান সাতক্ষীরা জেলার অধিবাসী মশিউর রহমান। এসময়ে র‌্যাব সদস্যরা বন্যের মধ্য থেকে দস্যুদের ব্যবহৃত ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। ৩ মার্চ সুন্দরববনে কচিখালী কটকা ও পাথরঘাটা সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭ জেলেকে জলদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়। এর পর ১০ মার্চ সুন্দরবনের কচিখালী চান্দেশর খালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকার জলদস্যু মো. মনিরসহ চট্টগ্রাম এলাকার তিন জলদস্যু মো. এনাম, মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. হাসান নিহত হয়। এসময়ের দস্যুদের ব্যবহৃত ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব।  ৬ মে সুন্দরবনের শ্যালা নদীর আন্দার মানিক মৃগমারী খালে বন্দুকযুদ্ধে আলম বাহিনীর প্রধান বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বনদস্যু মো. আলম খান নিহত হয়।  এসময়ে র‌্যাব সদস্যরা ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে র‌্যাব প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকে এ পর্যন্ত সফল অভিযানে ৬৭৭টি অস্ত্র, ১৯১৬০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারসহ ২৩৮ জন জলদস্যু বা বনদস্যুকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।  যার ফলে সুন্দরবন কেন্দ্রিক বনদস্যু বা জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে কমে এসেছে।

    এদিকে দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট মাঠে ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ১শ ৫ রাউন্ড গুলিসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসর্মপন করা বনদস্যু নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্য। এর আগে গত ৩১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “মাষ্টার বাহিনীর” ১০ জন জলদস্যু ৫২টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে প্রথম বারের মতো আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসর্মপন করে।  তার ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর” ১১ জন জলদস্যু ২৫টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১ হাজার ২০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে। গত ৭ সেপ্টেম্বর জলদস্যু “আলম ও শান্ত বাহিনীর” ১৪ জন জলদস্যু ২০টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পন করে। ১৯ অক্টোবর সাগর বাহিনী ১৩ সদস্যকে ২০টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৬ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ জমা দেয়।  গত ২৮ নভেম্বর খোকাবাবু বাহিনীর ১২ সদস্য ২২টি দেশী বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৩ রাউন্ড গোলাবারুল’সহ র‌্যাব-৮ এর নিকট আত্মসমর্পন করে।  এবং সর্বশেষ ৭ ও ৮ জানুয়ারী নোয়া বাহিনীর ১২ সদস্য ২৫ টি অন্ত্র ও এক হাজার একশ পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পন করে।