শ্রীপুরে মুক্তিযোদ্ধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি চান এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতির দাবী জানিয়েছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও গ্রামবাসীগণ। শুক্রবার বিকেলে নগরহাওলা উত্তরপাড়ায় বিদ্যালয় মাঠে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ দাবী করেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হাজী আমির আলী বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবের অনুকূলে ১৯৯৪ সনে সাড়ে ৫২ শতক জমি রেজিষ্ট্রী করা হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে জমিটুকু নামজারী জমাভাগ করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিক প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। সরকারের উচ্চ মহলে এসব প্রতিবেদনও জমা দেয়া হয়। চারজন শিক্ষক নিয়ে তিন বছর পঠন পাঠনও চলে। এ সংক্রান্ত দলিলপত্র প্রদর্শন করে তিনি বলেন, অদৃশ্য কারণে বিদ্যালয়টির স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের বলেন, নগরহাওলা গ্রামে কমপক্ষে সাত হাজারের অধিক জনসংখ্যা রয়েছে। বিদ্যালয়টির চারপাশে তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এলাকার শিশুদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে পাশর্^বর্তী গ্রামের বিদ্যালয়সমূহে যাতায়াত করতে হয়। গত দু’যুগ আগে থেকেই এ গ্রামে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চাহিদা রয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষিত জাতি গড়তে মুক্তিযোদ্ধা আমির আলী, স্থানীয় আব্দুল আউয়াল, জামালউদ্দিন, ফজলুল হক, তোতা মিয়া, ছফির উদ্দিন, চাঁন মিয়া মোট সাড়ে ৫২ শতক জমি দান করেন। শ্রীপুরের ধনুয়া মৌজার ৩১৮ নং খতিয়ানের আর.এস ৩০৮১/৩০২৩ নং দাগে বিদ্যালয়ের নামে ১৬ নং জোত খোলা হয়। ওই সম্পত্তির বর্তমান মূল্য কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ হায়দার, আমীর আলী, নুরুল হক, কাদের সিদ্দিকী, আব্দুল কাদের, স্থানীয় শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার সুলতান উদ্দিন, জসীম উদ্দিন সোহাগ, যুবক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ হায়দার বলেন, এলাকার কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়া সহজ হবে। আঞ্চলিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারের প্রতি বিদ্যালয় স্বীকৃতির জোর দাবী করেন।

এ ব্যাপারে শ্রীপডুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে সরকারীভাবে সাড়ে ৫২ শতক জমি নথিভুক্ত হয়েছে। ১৫’শ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের সাথে সমন্বয় করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন ও কাগজপত্র উচ্চ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেদনও দেয়া হয়েছে।