শুক্রবার থেকে শুরু বিশ্ব ইজতেমা


স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম তাবলীগ জামাতের ৫২ তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে আগামিকাল। এ উপলক্ষে গতকাল থেকেই তুরাগ তীরে মুসলি­দের ঢল নেমেছে। দুই পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ৩২ জেলার মুসলি­রা অংশ গ্রহন করবেন।  প্রথম পর্বে ১৬ জেলায় ও দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসলি­রা অংশ গ্রহণ করবেন। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন মুসলি­দের জন্য ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লী­দের নিরাপত্তায় ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য করছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, আগামিকাল বাদ ফজর থেকে আম’বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। গতকাল থেকেই লাখ লাখ মুসলি­ তাদের খিত্তায় অবস্থান করেছেন। এছাড়াও অনেক বিদেশি মুসলি­ তাদের কামরায় অবস্থান নিয়েছেন।

এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যেসব জেলার মুসল্লীরা অংশ নিবেন : প্রথমপর্বে ১৬ জেলার মধ্যে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫), টাঙ্গাইল (খিত্তা নং-৬, ৭, ৮), ময়মনসিংহ (খিত্তা নং-৯, ১০, ১১), মৌলভীবাজার (খিত্তা নং-১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা নং-১৩), মানিকগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪), জয়পুরহাট (খিত্তা নং-১৫), চাপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা নং-১৬), রংপুর (খিত্তা নং-১৭), গাজীপুর (খিত্তা নং-১৮, ১৯), রাঙ্গামাটি (খিত্তা নং-২০), খাগড়াছড়ি (খিত্তা নং-২১), বান্দরবান (খিত্তা নং-২২), গোপালগঞ্জ (খিত্তা নং-২৩), শরীয়তপুর (খিত্তা নং-২৪), সাতক্ষীরা (খিত্তা নং-২৫), যশোর (খিত্তা নং-২৬,২৭)।

দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭), মেহেরপুর (খিত্তা নং-৬), লালমনিরহাট (খিত্তা নং-৮), রাজবাড়ি (খিত্তা নং-৯), দিনাজপুর (খিত্তা নং-১০), হবিগঞ্জ (খিত্তা নং-১১), মুন্সিগঞ্জ (খিত্তা নং-১২, ১৩), কিশোরগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪, ১৫), কক্সবাজার (খিত্তা নং-১৬), নোয়াখালী (খিত্তা নং-১৭, ১৮), বাগেরহাট (খিত্তা নং-১৯), চাঁদপুর (খিত্তা নং-২০), পাবনা (খিত্তা নং-২১, ২২), নওগাঁ (খিত্তা নং-২৩), কুষ্টিয়া (খিত্তা নং-২৪), বরগুনা (খিত্তা নং-২৫) ও বরিশাল (খিত্তা নং-২৬) মুসলি¬রা অংশ নিবেন। তবে ঢাকা জেলার মুসল্লীরা ইজতেমার দুই পর্বেই অংশ নিবেন।  মুসল্লীদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দক্ষিণ দিকে খিত্তার নম্বর বসানো হয়েছে।

আগামি ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

উলে­খ্য, দিন দিন বিশ্ব ইজতেমায় শরীক হওয়া মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থান সংকুলনা না হওয়ায় গত গত বছর থেকে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের সুরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। গত বছর যে ৩২ জেলার মুসলি­রা অংশ গ্রহণ করেছেন এবছর তারা ইজতেমায় অংশ নিবেন না। অবশ্য যে সকল জেলার মুসল্লীরা অংশ নিচ্ছেন না তারা নিজ নিজ জেলায় ইজতেমার আয়োজন করেছেন।

গতকাল ইজতেমা ময়দানে সরেজমিনে দেখা গেছে, তুরাগ তীরে ১৬৫ একর বিশাল ময়দান জুড়ে চটের সামিয়ানা তৈরীর কাজ সমাপ্ত হয়েছে। জামাতবন্দী মুসল্লীরা ছাড়াও টঙ্গীর আশপাশ এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার এবং সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে ইজতেমা ময়দানের অসমাপ্ত কিছু আংশিক কাজ করছেন।

ইজতেমা ময়দানে দেখা হয় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মতিউর রহমান মতির সঙ্গে। তিনি বলেন, এবারের ইজতেমা সফল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগের দলীয় নেতাকর্মীরা মুসলি­দের জন্য কাজ করছেন।  ইতোমধ্যে ইজতেমার প্রস্তুতির সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দলীয়কর্মী ও কমিউনিটিং পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান মতিউর রহমান মতি।

বিশ্ব ইজতেমার তদারকি কমিটির সদস্য ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, আগত লাখো মুসল্লীর সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিরোধক বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। মুসলি­দের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর ৭টি ভাসমান সেতু ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসন নতুন রাস্তা নির্মাণসহ ময়দানের প্রবেশের পুরোনো রাস্তাগুলো মেরামত, সংস্কার, সুপেয় পানিসহ ওজু, গোসলের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, টয়লেট ইত্যাদি সকল কাজ সম্পন্ন করেছেন।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেন তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, মুসলি­দের সার্বিক নিরাপত্তায় ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় ৫ স্তর নিরাপত্তা বলয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। ৯টি ওয়াচ টাওয়ারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সিসি ক্যমেরা স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে র‌্যাবের গোয়েন্দারা নজরদারি রাখছেন। আকাশ পথে টহলে থাকবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার। নদী পথে থাকবে বোর্ড পেট্রোল। এছাড়াও যে কোনও নাশকতা প্রতিরোধে র‌্যাবের স্পেশাল কুইক ষ্টপ টিম সাদা পোশাকে কাজ করবে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমায় মুসল্লী­দের নিরাপত্তায় দুই পর্বে ১০ হাজারেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করবেন। এবারও বিশ্ব ইজতেমায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি বসানো হয়েছে।  পুলিশ এটাকে তাদের এবাদত মনে করে দায়িত্ব পালন করবে।