• দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ : প্রধানমন্ত্রী


    গাজীপুর প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সকলকে কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সেবা প্রদান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারিগর-এ দুইয়ের সমন্বিত শক্তিকে আপনাদের কাজে লাগাতে হবে। দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। জননিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে সততা, সাহস ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। মনে রাখবেন, জনগণ ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং শান্তির পরিবেশ ধরে রাখা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ। আপনারা এ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা সবাই একযোগে কাজ করলে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলাদেশ’ অচিরেই বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারব- এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪০তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে প্যারেড পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করে এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা এ বাহিনীকে একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনারা সবসময়ই কর্মদক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে জাতীয় সঙ্কটময় ও জরুরি মূহুর্তে আপনাদের কর্মতৎপরতা এ বাহিনীকে সরকারের এক নির্ভরযাগ্যে অংশে পরিণত করেছে। জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপালনসহ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও মৌলবাদ নির্ম‚লে আপনাদের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২০-২০২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমি জানতে পেরেছি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘মুজিব বর্ষের উদ্দীপন, আনসার ভিডিপি আছে সারাক্ষণ’ স্লোগানটিকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ জন্য আমি বাহিনীর মহাপরিচালকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্য-সদস্যাবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


    এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী আনসার ও ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ শেষে খোলা জীপে করে প্যারেড পরিদর্শণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাহসিকতা ও সেবার জন্যে ৮টি বিভাগে ১৪৩ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে ৬শত নারী আনসার সদস্যের অংশগ্রহণে গ্যালারী ডিসপ্লে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কারে।

    প্রধানমন্ত্রী আনসার-ভিডিপি সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্পের স্টল ঘুরে দেখেন এবং ভ‚য়সী প্রশংসা করেন। পরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে একাডেমির ছাতালেক-এ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যেস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো: আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং ইংরেজি নববর্ষ বরণের সময়ে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা ঠেকাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আপনাদের বলিষ্ঠ ও সক্রিয় ভ‚মিকা দেশবাসী দেখেছে। বিভিন্ন সময়ে দেশের জননিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বপালনকালে যেসব অকুতোভয় আনসার সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করছি এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, আপনাদের সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের বিষয়টি সর্বদাই আমাদের সুদৃষ্টিতে রয়েছে। আপনাদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দৃষ্টান্তমূলক দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতিবছর সেবা ও সাহসিকতা পদক আমাদের সরকারই প্রবর্তন করেছে। আজ যারা সেবা ও সাহসিকতা পদক অর্জন করেছেন তাদের আমি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যগণ খেলাধুলা ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। সদ্য সমাপ্ত এসএ গেমস- এ বাংলাদেশের অর্জিত ১৪২টি পদকের মধ্যে ৬৮টি পদক অর্জন করেছে এ বাহিনীর খেলোয়াড়গণ।

     

    Spread the love
    Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial