• ব্রেকিংনিউজ: না ফেরার দেশে নায়করাজ রাজ্জাক     ::     পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে কোন পশু এবারের ঈদে আমদানীর প্রয়োজন নেই : বাণিজ্য মন্ত্রী     ::     আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের উন্নয়ন হয় : প্রধানমন্ত্রী     ::     সড়ক-মহাসড়ক যান চলাচলের উপযোগি রাখতে দিনরাত কাজ চলছে : ওবায়দুল কাদের     ::     আসছে ওয়ালটনের ‘সেলফি কিং’     ::    
    Development-Mela

    তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু হচ্ছে আজ


    image_pdfimage_print

    ডেস্ক : রূপকল্প-২০২১ এবং ভিশন-২০৪১ তথা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে আজ থেকে দেশের সকল জেলা ও উপজেলা সদরে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন মেলা- ২০১৭’। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র-শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার বেলা তিনটায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘উন্নয়ন মেলা- ২০১৭’-এর সাফল্য কামনা করে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ‘উন্নয়ন মেলা’ উপলক্ষে এক বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন “বর্তমান সরকার সূচিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম জনসাধারণের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী ‘উন্নয়ন মেলা ২০১৭’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। উন্নয়ন মেলা আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

    বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। নেয়া হয় জনকল্যাণে নানা কর্মসূচি। সরকারের লক্ষ্য ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। সে লক্ষ্য অর্জিতও হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে প্রথম মেয়াদে এবং ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি দেশের অর্থনীতি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

    একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো কর্মসূচি অর্থনীতির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিসহ দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) সাফল্যের সঙ্গে অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এসডিজি) গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ এ লক্ষ্যও অর্জনে সফল হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

    বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। সরকার গৃহীত ‘ভিশন ২০২১’ এবং ‘ভিশন ২০৪১’ এর আলোকে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, ইন্শাআল্লাহ।

    উন্নয়ন মেলা’র মাধ্যমে সরকারের অর্জিত সাফল্য এবং জনকল্যাণে গৃহীত কর্মসূচি দেশবাসী জানতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি উন্নয়ন মেলার সার্বিক সফলতা কামনা করি।

    প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে এক বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, “দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ৯ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ৩ দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন মেলা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

    এই উন্নয়ন মেলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের চলমান উন্নয়ন সাফল্যকে জনগণের সামনে তুলে ধরে তাদের সরকারের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সহ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সরকারের সাফল্য প্রচার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এ মেলা বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি কর্মকর্তাগণের পরস্পরের মধ্যে মতবিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিতকরণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নেও এই মেলা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

    উন্নয়ন মেলায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা, ব্যাংক-বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশগ্রহণ করবে।

    মেলায় একটি বাড়ি একটি খামার, কমিউনিটি ক্লিনিক, নারীর ক্ষমতায়ন, সবার জন্য বাসস্থান, শিক্ষা সহায়তা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পরিবেশ সুরক্ষা, বিনিয়োগ বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে।

    মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন সভা, সেমিনার, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ছবি ও পোস্টার প্রদর্শন এবং দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিবেশনের আয়োজন থাকবে।

    সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা নি¤œ-মধ্য আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য-আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় প্রতিষ্ঠিত করা।

    আসুন, দলমতনির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে নিজেদের নিয়োজিত করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, সুন্দর এবং বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার দেই।

    ‘উন্নয়ন মেলা’ ২০১৭ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আমি মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

    তথ্যসূত্র : বাসস।