• ব্রেকিংনিউজ: কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধারকৃত জীপটি জাপা নেতা হেফজুরের     ::     একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন     ::     বাজারে আসছে ওয়ালটনের ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার, ক্যাসেট ও সিলিং টাইপ এসি     ::     অর্পিত দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি : সিইসি     ::     সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে : নাসিম     ::    
    10_01_2017-PID

    তথ্য অধিদফতরে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা


    image_print

    স্টাফ রিপোর্টার : ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত হলেও বিজয়ের পরিপূর্ণতা লাভ করে জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে পাকিস্তান সরকার জাতির পিতাকে কারামুক্ত করলে তিনি প্রথম লন্ডন যান। সেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সরকার বঙ্গবন্ধুকে অভূতপূর্ব বীরোচিত সংবর্ধনা দেন।

    বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমান কিছু সময়ের জন্য দিল্লীতে যাত্রা বিরতি করে। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সমগ্র মন্ত্রিসভা, প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য অতিথি ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ভারতের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের কাছে তাদের অকৃপণ সাহায্যের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি। প্রধান তথ্য অফিসার বলেন, পরবর্তীতে কোলকাতায় যাত্রা বিরতির কথা থাকলেও অপেক্ষমান জনগণের অধির আগ্রহের কথা চিন্তা করে মাটির টানে বঙ্গবন্ধু দিল্লী থেকে সরাসরি দেশে চলে আসেন।

    তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে বাঙালি জাতি প্রাণঢালা সংবর্ধণা জানানোর জন্য ১০ জানুয়ারি ভোর থেকে ছিল অপেক্ষায়। ঢাকা তেঁজগাও বিমানবন্দর থেকে তিনি তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে আসেন। বিকেল পাঁচটার দিকে রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের স্বাদ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।’ পাকিস্তান সরকার তাকে মৃত্যুর হুমকি দিলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাঙ্গালি ! আমি মানুষ ! আমি মুসলমান ! মানুষ একবার মরে, দুইবার মরে না। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে দেশ স্বাধীন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ১০ জানুয়ারির ভাষণে তিনি দিয়েছিলেন দেশ গড়ার পরিকল্পনা ও প্রকাশ করেছিলেন তাঁর আজন্ম লালিত স্বপ্ন।

    এ কে এম শামীম চৌধুরী আরো বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মাতৃ-মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রভূত সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ আজ নিজের যোগ্য আসন করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমাদেরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধান অনুযায়ী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের দেশের সেবা করতে হবে।

    আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার (প্রটোকল) ফজলে রাব্বী এবং সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস) আকতার হোসেন ছাড়াও অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।