• ব্রেকিংনিউজ: কুড়িগ্রামের রৌমারীতে টানা বর্ষনে শতশত একর বোরো ক্ষেত পানির নীচে     ::     টঙ্গীতে জঙ্গী বিরোধী চিরুনী অভিযান     ::     কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কখনও জঙ্গি হতে পারে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী     ::     আগামী বিজয় দিবসের আগেই যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বিল সংসদে পাস করা হবে : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী     ::     দেশের একমাত্র অগ্রগামী শিল্প প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন : অর্থমন্ত্রী     ::    
    Treatment

    চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত কুড়িগ্রামের কচাকাটার ৫০ হাজার মানুষ


    image_print

    এস এম আশরাফুল হক রুবেল, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের কচাকাটায় কেদার ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকার পরও চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অধিকাংশ রোগীদের। ফলে বাধ্য হয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে এখানকার মানুষজন।

    কচাকাটা বাসীর চিকিৎসা সেবার জন্য ১৯৬৮ ইং সালে একটি হাসপাতাল গড়ে উঠে এবং কচাকাটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে থানা ঘোষণা করার পর নতুন ভবন নির্মাণ হয় ২০১৩ ইং সালে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স সহ অন্যান্য লোক বলের অভাবে এখানকার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি কয়েক বছর ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। চলছে মাত্র ১ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে। বর্তমান সরকার প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিলেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে কচাকাটা থানার ৩ ইউনিয়নের ৫০ হাজার বাসিন্দা। প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে অধিকাংশ রোগীদের। ফলে বাধ্য হয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হতে হচ্ছে এখানকার মানুষজনকে। তাদেরকে নির্ভর করতে হয় কয়েকটি ফার্মেসীর ওষুধ বিক্রেতার কাছে।

    দুর্ঘটনায় পড়লে বা অসুস্থ হলে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা অথবা আল্লাহর উপর ভরসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে জানালেন কচাকাটার স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় ফরিদুল হক জানান, বিনা চিকিৎসায় প্রতি বছর কচাকাটা এলাকায় রোগীর মৃত্যু বেড়েই চলছে। এর পরও কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কচাকাটা হাসপাতালের একমাত্র ভরসা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মোঃ আজহারুল ইসলাম তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ হাসপাতালে ০৮ টি পোষ্ট রয়েছে। মেডিক্যাল অফিসার ০১ জন, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ০১ জন, ফার্মাসীস্ট ০১ জন, অফিস সহকারী এম এ এস, এস ০১ জন, ভিজিটর এইচ আই ০১ জন,এ এইচ আই ০১ জন, এইচ, এ ০১ জন, এদের মধ্যে কারও ডিউটি প্রতি মাসে, আবার কেউ অন্য ওয়ার্ডে কর্মরত আছেন। আর বাকীগুলো অনুপস্থিত থাকেন। পোস্টিং এখানে থাকলেও যোগাযোগ ভাল যে স্থান সেখানে কাজ করেন কিন্তু বেতন ভাতা এখান থেকে উত্তোলন করেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, আমিও থাকব না এতবড় একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান একা চালানো সম্ভপর নয়।

    এ বিষয়ে ঐ এলাকার সচেতন নাগরিক উপজেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, এর আগেও উপর মহলের কাছে আবেদন করেছি, কোন ফল পাই নাই। এখানে বড় হাসপাতাল নেই, প্রাইভেট ক্লিনিক নেই, আছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেখানেও ডাক্তার নেই, নেই যন্ত্রপাতি, এম্বুল্যান্স সহ প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই।

    এব্যাপারে কচাকাটা কেদার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সমস্যাগুলো স্বীকার করে বলেন, কচাকাটা থেকে ভুরূঙ্গামারী সদর হাসপাতাল ৩৫ কি: মি:। রাস্তার বেহাল দশা। একটা জরুরী রোগী হাসপাতালে পৌঁছার আগেই রাস্তায় মারা যায়। তিনি যত দ্রæত সম্ভব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।