• ব্রেকিংনিউজ: কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধারকৃত জীপটি জাপা নেতা হেফজুরের     ::     একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন     ::     বাজারে আসছে ওয়ালটনের ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার, ক্যাসেট ও সিলিং টাইপ এসি     ::     অর্পিত দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি : সিইসি     ::     সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে : নাসিম     ::    
    17_12_2016 Korigram Hospital

    কুড়িগ্রামের রায়গঞ্জ পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, আন্ত:বিভাগ ১৮ বছর ধরে বন্ধ


    image_print

    এস এম আশরাফুল হক রুবেল, কুড়িগ্রাম থেকে : এ যেন চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় রোগীর ধুঁকে ধুঁকে মরার মত অবস্থা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখানে বর্হিবিভাগে চিকিৎসাসেবা চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। ১০ শয্যাবিশিষ্ট আন্ত:বিভাগ ১৮ বছর ধরে বন্ধ। অর্ধমৃত এই হাসপাতালটির নামমাত্র বর্হিবিভাগের কার্যক্রম চালু থাকলেও পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসক নেই আর কখন যেন ছাদ মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে এভয়ে ডাক্তাররা যেমন প্রেষণে অনত্র বদলি নেন তেমনি রোগিরাও রয়েছে ভযে। ভবন ঝুঁকিপূর্ণসহ চিকিৎসক সংকটের কারনে লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হলেও সংকট সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই ।
    ১৯৬২ সালে প্রায় সাড়ে ৯ একর জমির উপর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চালু হয়। দূর্গম চরাঞ্চলসহ পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল ছিল এই হাসপাতালটি। সে সময় প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমবিবিএস, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারী ছিল কিন্তু হাসপাতাল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় ১০ শয্যা বিশিষ্ট আন্তঃবিভাগ। সেই থেকে শুরু না থাকার কাহীনি। বর্তমানে হাসপাতালে বর্হিবিভাগ চালু থাকলেও নেই কোন চিকিৎসক কিংবা নার্স। বর্হিবিভাগ একজন উপসহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ১জন ফার্মাসিস্ট, ১জন এমএলএসএস ও ১জন সুইপার রয়েছেন। যদিও এখানে ২২টি পদ রয়েছে। বাকি সবাই প্রেষণে অনত্র দায়িত্ব পালন করছেন।

    সংস্কারের অভাবে ধ্বসে পড়ছে হাসপাতালের ছাদ আর ভবন। শ্যাওলা জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেয়াল। সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসক নার্স ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সাতটি কোয়াটার সহ বিভিন্ন স্থাপনা। বিচ্ছিন্ন রযেছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। ফলে সন্ধ্যা নামলেই ভূতুরে এলাকায় পরিণত হয় হাসপাতাল ক্যাম্পাস। হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ যেতে ছাদ ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় সিড়িঘড় বন্ধ রাখা হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে অপারেশন থিযেটারের যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার ও জেনারেটর চুরি যাবার ভয়ে নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাসে অনেক সম্পদ সীমানা দেয়াল না থাকায় অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে অনেক মুল্যবান জিনিষপত্র।

    চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগিরা জানান অনেক দুর দরান্ত থেকে এসে হাসপাতালে ডাক্তারের যেমন দেখা পাননা তেমনি পাননা তারা প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। ফলে হাসপাতাল টিতে ৫টি ইউনিয়ন আ›ন্ধারীঝাড়, বামনডাঙ্গা, সন্তোষপুর, কচাকাটা, রায়গঞ্জ সহ চরাঞ্চলের বাসিন্দারা হচ্ছে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত। এখান থেকে নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এর দূরত্ব ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার হওয়ায় চরের বাসিন্দাদের পার হতে হয় একাধিক নদী।

    অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটি বন্ধ থাকার কারণে বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা ক্যাম্পাস এখন মাদকসেবীর আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দিনে জুয়ার আসর আর রাতে মাদকও অসামাজিক কাজের নিরাপদ আস্তানা এই ক্যাম্পাস।

    গৃহবধু ফাতেমা বেগম বলেন চিকিৎসা নিতে এসে তাকে ফিরে যেতে হচ্ছে, এখন এই দুপুরে নাগেশ্বরী যেতে হবে কোলের বাচ্চাটা ভীষণ অসুস্থ্য। স্থানীয় দিনমজুর জলিল বলেন, হামার এই জাগাত বড় ডাক্তার না থাকায় হামরা চিকিৎসা পাইনা, দোকানদারের ঠাই ওষুধ কিনি খাই।

    হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট সাইফুল ইসলাম রলেন, তিন মাসের জন্য কুড়িগ্রাম থেকে একবার ওষুধ পান, রোগির ভীড় থাকায় একমাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো না হলে আউটডোর চালানো সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

    এই হাসপাতালটিকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসী রায়গঞ্জ হাসপাতাল রক্ষা কমিটি গঠন করে সংস্কার ও চালুর দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছে কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা স্বাস্থ্য বিভাগ। রায়গঞ্জ হাসপাতাল রক্ষা কমিটির সভাপতি আনু ইসলাম বলেন চোখের সামনে এত বড় একটি হাসপাতাল তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ভাবতেই কষ্ট লাগে অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি, আন্দোলন করেও কতৃপক্ষের কোন সাড়া পাচ্ছিনা।
    কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম আমিনুল ইসলাম রায়গঞ্জ পল্লী হাসপাতালের বর্তমান ভগ্নদশা নিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, এটিকে রক্ষার জন্য ২০০৬ সালে পরিত্যাক্ত হাসপাতালটিতে ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিস্ট বা মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল বা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্টার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এরপর সেই প্রস্তাবের আর অগ্রগতি হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে এর কার্যকারিতা।

    সম্পত্তি বেদখল হওযার আগে লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসা সেবার দিক বিবেচনা করে মৃতঃপ্রায় এই হাসপাতালটিকে সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হোক।