• ব্রেকিংনিউজ: ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও তা মুছে ফেলা যায় না : প্রধানমন্ত্রী     ::     জাতীয় পর্যায়ে এবারও সেরা কর দাতার সম্মাণনা পেলো ওয়ালটন     ::    
    BOU Pic 01

    উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষাবঞ্চিতদের জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক দূরশিক্ষণের একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান 


    image_pdfimage_print

    মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম :

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একমাত্র উন্মুক্ত ও দূরশিক্ষণ শিক্ষা ব্যবস্থার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সকল পর্যায়ের শিক্ষায় জনগণের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত ও ত্বরাম্বিত করে দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ১৯৯২ সালের ২০শে অক্টোবর বাংলাদেশ উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর যাত্রা শুরু। এ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৫ ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে- “বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য হইবে যে কোন ধরণের যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বহুমূখী পন্থায় সর্বস্তরের শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সম্প্রসারণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাকে গণমুখীকরণের মাধ্যমে সর্বসাধারণের নিকট শিক্ষার সুযোগ পৌঁছাইয়া দেওয়া এবং সাধারণভাবে জনগণের শিক্ষার মান উন্নীত করিয়া দক্ষ জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করা”। এ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর আইনের অধীনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে চলছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সারাদেশ জুড়ে বিস্তৃত। গাজীপুর জেলার বোর্ড বাজার এলাকায় ৩৫ একর জায়গার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মূল ক্যাম্পাস। একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কর্মকান্ডের মূল অফিসগুলো প্রধান ক্যাম্পাসে রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং ৮০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন, পাঠসামগ্রী বিতরণ টিউটোরিয়াল সার্ভিসসহ শিক্ষা বিষয়ক কর্মকান্ড মূল ক্যাম্পাস হতে সমন্বয় ও তদারক করা হয়ে থাকে। মূলত: বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত স্টাডি সেন্টারসমূহের সম্মানিত শিক্ষকগণ বিভিন্ন প্রোগ্রামের ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের টিউটোরিয়াল ক্লাস পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে দেশ জুড়ে ১৬০০ টির বেশি স্টাডি সেন্টারে ২৪ হাজারের অধিক টিউটরের একাডেমিক পরামর্শ ও সহায়তায় ছয় লক্ষেরও অধিক শিক্ষার্থী পাঠ সম্পর্কিত মূল্যবান পরামর্শ ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করছেন।

    BOU Pic 05

    বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পটভূমি : ১৯৫৬ সালে অডিও ভিস্যুয়াল সেল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ দেশে দূরশিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬২ সালে অডিও ভিস্যুয়াল এডুকেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দূরশিক্ষার নতুন ধাপ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালে স্কুল ব্রডকাস্টিং প্রোগ্রাম চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল মিডিয়া এন্ড টেকনোলোজী  (NIMET) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দূরশিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন (BIDE) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথমবারের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম ব্যাচেলর অব এডুকেশন  (B.Ed) দূরশিক্ষণে চালু হয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)  এর আর্থিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী জরীপের মাধ্যমে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, সুযোগ বঞ্চিত, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, কর্মজীবীদের দক্ষতাবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় এনে দেশের বিপুল সংখ্যক জনগণকে শিক্ষার মহাসোপানে সম্পৃক্ত করার জন্য ১৯১২ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন (BIDE)  এর সঙ্গে অঙ্গীভূত হয়।

    শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার : 

    BOU Pic 07

    উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা নির্ভর একটি ব্যাতিক্রমধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর এক যুগে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রিন্ট ও জাতীয় পর্যায়ের ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, টিউটোরিয়াল সার্ভিস এর মাধ্যমে শিক্ষা সেবা প্রদান করেছে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার শুরু করেছে। ইন্টারনেট, টেলিভিশন ও রেডিও ব্রডকাস্টিং, মাইক্রো-এসডি কার্ডে ভিডিও লেকচার সরবরাহ; ওয়েবসাইট ও মোবাইলের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, এসএমএস, ই-লার্র্র্নিং, ভিডিও কনফারেনসিং, মাল্টি মিডিয়া, ওয়েবসাইটে সকল একাডেমিক প্রোগ্রামের ই-বুক আপলোডকরণ, ইউটিউব, টুইটার, ওয়েব টেলিভিশন, ওয়েব রেডিও, ডিভিডি ও ইন্টার একটিভ ভার্চুয়াল ক্লাসরুম (আই ভিসিআর), এফএম রেডিও, মোবাইল এ্যাপস ইত্যাদি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সংযুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীগণ কম্পিউটার ও মোবাইল-এর মাধ্যমে সহজেই এর সুবিধা গ্রহণ করছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্তি : প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত এক্সেস টু ইনফরমেশন (a2i)  প্রোগ্রামের আওতায় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার পরিসর বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এক্সেস টু ইনফরমেশন (a2i)  প্রোগ্রামের একাডেমিক প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। প্রিন্ট এবং অডিও রিসোর্স শেয়ারিং, লার্ণাস লার্নিং ম্যানেজমেন্ট, লার্ণাস লার্ণাস, লার্ণাস টিচার্স ইন্টার এ্যাকশন, ফোরাম ডিসকাস ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওপেন এডুকেশন রিসোর্স (OER)  প্রোগ্রামে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত হয়েছে। দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লার্ণিং, ব্লেন্ডেড  এডুকেশন সুবিধা দিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিলেটেটর হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছে।

    সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সৈনিকদের জন্য শিক্ষা সুবিধা : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সৈনিকদের শিক্ষা সুবিধা দেবার লক্ষ্যে এইচএসসি প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন সেনানিবাসের অধীনে ক্যান্টপাবলিক স্কুল ও কলেজগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার খোলা হয়েছে। সৈনিকগণ দুই বছরের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি সার্টিফিকেট অর্জন করবে।

    শিক্ষা প্রোগ্রামের বৈচিত্র্য :

    BOU Pic 11

    জনগণকে যার যার ক্ষেত্র অনুসারে দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুদ্রিত পাঠসামগ্রী ও তথ্য প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, ৪ বছর মেয়াদী অনার্স প্রোগ্রাম, ৩ বছর মেয়াদী গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম, স্পেশালাইজড মাস্টার্স প্রোগ্রাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রোগ্রামের বৈশিষ্ট। স্বল্প খরচে ঘরে বসে শিক্ষার্থীরা এ সকল প্রোগ্রামে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিতে পারে।

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত একাডেমিক প্রোগ্রামসমূহ : স্কুল অব এডুকেশন: ফরমাল প্রোগ্রাম : মাস্টার অব এডুকেশন (এমএড), ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড), সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন (সিএড), অনলাইন এমএড প্রোগ্রাম (চালুর অপেক্ষায়), ননফরমাল প্রোগ্রাম : প্রসূতি ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবেশ; সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল: ফরমাল প্রোগ্রাম : ৪ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব আর্টস, ব্যাচেলর অব সোশাল সায়েন্স এবং ব্যাচেলর অব ল (এলএলবি), ৩ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ), ব্যাচেলর অব সোশাল সায়েন্স (বিএসএস), ব্যাচেলর ইন ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ টিচিং (বেল্ট), সার্টিফিকেট ইন এ্যারাবিক ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি (কাল্প), সার্টিফিকেট ইন ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ প্রফিসিয়েন্সি (সেল্প); ননফরমাল প্রোগ্রাম : সেচ ব্যবস্থাপনা, কর্মজীবী নারী, ধর্ম ও নীতিবিদ্যা; ওপেন স্কুল : ফরমাল প্রোগ্রাম : ব্যাচেলর অব বিজনেস স্টাডিজ (বিবিএস), হায়ার সেকেন্ডারী সার্টিফিকেট (এইচএসসি), এইচএসসি (নিশ-১), সেকেন্ডারী স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি); ননফরমাল প্রোগ্রাম : ভৌত বিজ্ঞান, গণিত; স্কুল অব বিজনেস: ফরমাল প্রোগ্রাম : মাস্টার অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ), কমনওয়েল্থ এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিমবা), কমনওয়েল্থ এক্সিকিউটিভ মাস্টার অব পাবলিক এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিমপা),EMBAব্যাচেলর অব বিজনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট (পিজিডিএম), সার্টিফিকেট ইন ম্যানেজমেন্ট (সিআইএম); ননফরমাল প্রোগ্রাম : ব্যাংক ঋণ, খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, বিপণন ব্যবস্থাপনা; স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুর‌্যাল ডেভেলপমেন্ট: ফরমাল প্রোগ্রাম : ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন (বিএজিএড), সার্টিফিকেট ইন লাইভস্টক এন্ড পোল্ট্রি (সিএলপি), সার্টিফিকেট ইন পিসি কাল্চার এন্ড ফিস প্রসেসিং (সিপিএফপি), ডিপ্লোমা ইন ইয়্যুথ ইন ডিভেলপমেন্ট ওয়ার্ক (ডিওয়াইডিডবিøউ), এমএস ইন এগ্রিকালচারাল সায়েন্স প্রোগ্রাম (চালুর অপেক্ষায়), মাস্টার্স ইন সাসটেইননেবল এগ্রিকালচারার এন্ড রুর‌্যাল লাইভলীহুড প্রোগ্রাম (চালুর অপেক্ষায়), ননফরমাল প্রোগ্রাম : সেচ ব্যবস্থাপনা, কর্মজীবী নারী, মৎস্য চাষ, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ, বনায়ন, উদ্যানতত্ত¡, খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, হাঁস-মুরগি পালন, পশু সম্পদ/গবাদি পশু পালন; স্কুল অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি : ফরমাল প্রোগ্রাম: ৪ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব কম্পিউটার সায়েন্স (বিসিএস), ব্যাচেলর অব সায়েন্স-ইন-নার্সিং (বিএসএন), ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড এপ্লিকেশন (ডিসিএসএ), মাস্টার্স ইন কম্পিউটার সায়েন্স (চালুর অপেক্ষায়), ননফরমাল প্রোগ্রাম : খাদ্য ও পুষ্টি, জনসংখ্যা, প্রস‚তি ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবেশ। সকল বিষয়ে পিএইচডি ও এমফিল প্রোগ্রাম। পরিকল্পনায় রয়েছে: Online Programs on Journalism and Media Studies, LLB (2-year), Diploma in Midwifery etc.

    শিক্ষার গুণগত মান : কমনওয়েলথ অব লানির্ং , কানাডা এর সহযোগিতায় কোয়ালিটি এ্যাসুর‌্যান্স ম্যানুয়াল তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট স্টান্ডার্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রোগ্রামের গুনগত মান নির্ধারণ ও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়াও বর্তমানে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। এখান থেকে জেলা উপজেলা ভিত্তিক কেন্দ্র সমূহে পরীক্ষা গ্রহন করা হবে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেয়া আরও সহজতর হবে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় গুণগত উৎকর্ষতা আনয়নের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত আছে। এগুলোর মধ্যে The Commonwealth of Learning (COL); SAARC Consortium on Open and Distance Learning (SACODiL); Asian Association of Open Universities (AAOU); International Council for Open and Distance Learning (ICODL); Association of Commonwealth Universities (ACU); Commonwealth Educational Media Center for Asia (CEMCA); Association of SAARC Universities (ASU); Global Alliance for Transnational Education (GATE); International Research Foundation for Open Learning (IRFOL); Commonwealth Open Schooling Association (COMOSA); International Council for Open and Distance Education (ICDE); Open University of Sri Lanka; Open University, UK; Open University of Malaysia; Yunan Open University, China; Indira Gandhi National Open University (IGNOU), India  উল্লেখযোগ্য।

    নানা বয়সের শিক্ষার্থী : 

    BOU Pic 13

    বিভিন্ন লেভেলের একাডেমিক প্রোগ্রামের বৈচিত্রের কারণে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের আগমনে ক্যাম্পাসে প্রাণের উচ্ছাসে রয়েছে বৈচিত্র। সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, গৃহবধূ যেমন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তেমনি ঝড়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীরাও এ বিশ্ববিদ্যালয় হতে শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা দেখাচ্ছে। বর্তমানে অনার্স প্রোগ্রামে বিবিএ প্রোগ্রামে অনেক নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা সুবিধা থাকায় এখানে পড়ালেখা করছে। প্রফেশনাল ডিগ্রি গ্রহণ করে কেউ হয়ে ওঠছেন দক্ষ শিক্ষক, কেউবা ব্যাংকার, কেউবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ, কৃষি শিক্ষায় শিক্ষক, উন্নয়ন কর্মী, সরকারী, আধা-সরকারি প্রতিসষ্ঠানে কর্মজীবী। সকলেই উন্মুক্ত শিক্ষার সুবিধা গ্রহণ করে কর্মক্ষেত্রে সাফল্য দেখাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ সমাবর্তনে প্রায় সাত হাজার গ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার ডিগ্রীধারীদের মূল ক্যাম্পাসে আগমণের মধ্যে দিয়ে তাঁদের সাফল্য ও শিক্ষায় স্বার্থকতা দেখিয়েছে। এ কারনেই দেশজুড়ে আঞ্চলিক কেন্দ্রে, পার্বত্য অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, হাওড় অঞ্চলসহ সর্বত্রই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার থাকায় নানা বয়সের শিক্ষার্থীগণকে একত্রে শিক্ষা নিতে আগ্রহী হতে দেখা যায় ।

    মিডিয়া সেন্টার :

    BOU Pic 08

    বাংলাদেশ উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া সেন্টার একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ মিডিয়া সেন্টার। এখানে আধুনিক ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরা ও এডিটিং প্যানেলসহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রি রয়েছে। মিডিয়া বিভাগে রেকর্ডিং স্টুডিওগুলো সম্পূর্ণভাবে রিনোভিশন করা হয়েছে যেখানে আধুনিকমানের ভিডিও রেকর্ডিং করা সম্ভব। মিডিয়া সেন্টারের উদ্যোগে ইন্টারনেট ভিত্তিক “যে কোন সময় বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে” ওয়েব টেলিভিশন ও ওয়েব রেডিও চালু করা হয়েছে। যে কোন সময় বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে এই ওয়েব টেলিভিশন ও ওয়েব রেডিও দেখা ও শোনা যাবে। এটি একটি শিক্ষা ভিত্তিক আন্ত:যোগাযোগ মাধ্যম। নিজস্ব আঙ্গিনায় শ্যুটিং এর সুবিধার্থে একটি মক ভিলেজ (Mock Village) প্রতিষ্ঠার কাজ প্রায় শেষের পথে। সরকারী অনুমোদন সাপেক্ষে মিডিয়া সেন্টার থেকে সরাসরি টিভি সম্প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব।

    মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য “স্বাধীনতা চিরন্তন” : মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ, দুই লক্ষাধিক সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং স্বজন ও সম্পদ হারানো অসংখ্য মানুষের গভীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বাঙালি বীরের জাতি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বিজয় গৌরব গাঁথা। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান। বাঙালির ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে হৃদয়ে ধারণ করার জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৯৯৮ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ভাস্কর্য নির্মাণ কাজে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের জন্য সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ প্রাথমিক অর্থায়ন করেন। গাজীপুরে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গীর ’ ভাস্কর্য নির্মাতা প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক-এর প্রণীত নকশাঁ অবলম্বনে ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু হয়। স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণ শুরু হবার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য নির্মাণাধীন অবস্থায় ইতিহাস বিকৃতির আড়ালে ঢাকা পড়ে। মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তি সরকারে আসার পর স্মারক ভাস্কর্যের ইতিহাস বিকৃতির দায়মোচন ঘটে। শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ইতিহাসবিদ ও চারুকলার সিনিয়র শিল্পী অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর ডিজাইন ও মূল নকশা অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ পুনরায় শুরু হয়। অধ্যাপক ভাস্কর্যশিল্পী মোঃ হামিদুজ্জামান-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে স্মারক ভাস্কর্যটি ২০১৩ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটির ল্যান্ডস্কেপিং করে ‘ স্বাধীনতা চিরন্তন’ ভাস্কর্যটিকে নান্দনিক শিল্পকর্মে পরিণত করেন।

    ভাস্কর্যের বিবরণ :

    BOU Pic 04

    বেদীর উপর দণ্ডায়মান স্তম্ভের শীর্ষে ৩টি উড়ন্ত বলাকা। সামনের অংশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের মুর‌্যাল। পেছনের অংশে ঢাকার রায়েরবাজারের ‘৭১-এর বধ্যভুমির চিত্র, দক্ষিণ পাশে যৌথবাহিনীর জেনারেল অরোরার কাছে পাকহানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ। উত্তর পাশে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ.এইচ.এম মোঃ কামরুজ্জামান-এর স্কেচখচিত মুর‌্যাল। ভুমি থেকে দীর্ঘ উচ্চতায় উঠে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য বাঙালির মুক্তির আকাঙ্খা ও শান্তির ললিত বার্তাই বহন করছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য তাই মুক্তির আনন্দ ও চিরায়ত শান্তির বারতা। ভাস্কর্যের গাঁথুনিতে ফুটে উঠেছে মুক্তির মহান কবিতা। উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উ›মুক্ত আকাশে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য তাই মুক্তি ও স্বাধীনতা চিরন্তনের মহান বার্তা।মুক্তিযুদ্ধ স্মারক ভাস্কর্যের উচ্চতা ৪৫ ফুট, ব্যাস ৮ ফুট, প্রস্থ ১৮ ফুট, আরসিসি সাদা সিমেন্ট রং মিশ্রণে তৈরি। মুক্তিযুদ্ধ স্মারক ভাস্কর্যের বেদী ৪০ ফুট ৯ ইঞ্চি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার :

    BOU Pic 10

    বিশ্ববিদ্যালয়টির শহীদ মিনার একটি ব্যাতিক্রমী বৈশিষ্ট্যে ভাস্বর। চর্তুভূজ আকৃতির বেদীর উপরে সম্পূর্ণ একক নিকষ কালো পাথরে শহীদ মিনারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাম পাশে সকলের দৃষ্টিতে পড়ে। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে নির্মিত শহীদ মিনারটির বেদীর দৈর্ঘ্য ২২ ফুট ও প্রস্থে ১৫ ফুট এবং উচ্চতায় ২ ফুট। বেদীর উপর নির্মিত যা কালো পাথরটি দৈর্ঘ্যে ১১ ফুট ও উচ্চতায় ২২ ফুট। বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত শিক্ষার্থীদেরকে শহীদ মিনারটি গভীরভাবে নাড়া দেয়। এই শহীদ মিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের শিক্ষার্থীরা শহীদ দিবসে ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন।

    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আন্তর্জাতিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট : শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আন্তর্জাতিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬০০ স্টাডি সেন্টারের ২৪০০০ টিউটরদের উ›মুক্ত ও দূরশিক্ষণে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালা আয়োজনের সুবিধা এখানে থাকছে। একই সঙ্গে ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে একটি গেস্ট হাউজও নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে যেখানে প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন সুবিধা থাকবে।

    পরবর্তী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা (২০১৫-২০২০) : মাস্টার্স/এমফিল/পিএইচডি কোর্স চালু করা; সার্টিফিকেট কোর্স /ডিপ্লোমা/ডিগ্রি লেভেলের নতুন প্রোগ্রাম চালু করা; প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ও আইটি ইনস্টিটিউট স্থাপন; একাডেমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিতকরণের জন্য Quality Assurance Framework (QAF)  তৈরী ও ব্যবহার; সকল প্রোগ্রামের টিউটরদের (২৪,০০০ জন)Open & Distance Learning (ODL) সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা; একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ; উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে ছাত্রদের জন্য Cyber Cafe  স্থাপন; একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ICTব্যবহার নিশ্চিতকরণ; E-Learning  কোর্স চালু করা; গ্রন্থাগারকে ICT ভিত্তিক আধুনিক গ্রন্থাগারে রূপান্তর করা সকল প্রকার শিক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৬ সালের মধ্যে বাউবিকে “পরিমার্জিত ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে গড়ে তোলা।

    BOU Pic 12

    ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় ভাবনা : একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর করা হবে। ই-লার্নিং, ভার্চূয়াল লার্নিং, বেøন্ডেড এডুকেশনসহ শিক্ষার নানাবিধ প্রযুক্তির কৌশল ব্যবহার করে সরকারের রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়া হবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ লক্ষ্যে ওয়েব রেডিও, ওয়েব টেলিভিশন, মাইক্রো এসডি কার্ড, ভার্চুয়াল ইন্টারএকটিভ ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপনা (e-learning) : বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেবার পর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের নিকট ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান সরকারের ২০১০ এর জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনে গৃহিত বিভিন্ন কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের আইসিটির সহজ সুযোগ গ্রহণ করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় একটি অত্যাধুনিক ই-লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। বাউবি’র একাডেমিক প্রোগ্রামসমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীর নিকট সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ই-লার্নিং সেন্টার সক্রিয় ভাবে কাজ করছে।

    ইন্টারএ্যকটিভ ভার্চুয়াল ক্লাসরুম (IVCR)  :

    BOU Pic 14 ইন্টারএ্যকটিভ ভার্চুয়াল ক্লাসরুম দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে একটি অত্যধুনিক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ সহজভাবে নেবার জন্য একটি কার্যকর মাধ্যম। ইন্টারএ্যকটিভ ভার্চুয়াল ক্লাস রুম ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দূরবর্তী অবস্থান থেকে শিক্ষকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে প্রশ্ন আদানপ্রদান করে শিক্ষা লাভ করতে পারে যার ফলে একই সঙ্গে একজন শিক্ষক বিভিন্ন অবস্থানে অবস্থানরত অগনিত শিক্ষার্থীকে একই সঙ্গে পাঠদান করতে পাবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে এর প্রধান ক্যাম্পাসে গাজীপুরে ২টি এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে দুটি সর্বমোট ০৬ টি আই ভি সি আর প্রতিষ্ঠা করেছে।

    লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS)  : শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাকে গণমূখীকরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গত ০২ বছরে শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতই তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সকল আধুনিক কলাকৌশল ব্যবহার শুরু করেছে। লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (খগঝ) একটি অত্যাধুনিক সফটওয়ার যা যে কোন শিক্ষার্থী একাডেমিক প্রোগ্রামের পাঠ যে কোন অবস্থান থেকে গ্রহণ করতে পারবে। এ লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন ও গতিশীল করা হয়েছে।

    ডিজিটাল লাইব্রেরি : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে বর্তমান প্রশাসন ডিজিটাল লাইব্রেরিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে। যা শিঘ্রই পুর্ণ উদ্যোগে চালু হবে। শিক্ষার্থীসহ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী যে কেউ এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

    BOU Pic 15

    অন লাইন ভর্তি সিস্টেম প্রবর্তন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অতি সম্প্রতি অন লাইনে বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তি করার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে।

    ওয়েব সাইটে ই-বুক আপ লোড : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রামের প্রায় ৪৫০ শত বই ই-বুকে রূপান্তরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে আপলোড করা হয়েছে। যে কোন শিক্ষার্থী অনায়াসে বিনা খরচে ওয়েব সাইট থেকে তাঁর কাংঙ্খিত বই ডাউনলোড করতে পারবে।

    মোবাইল এ্যাপস প্রযুক্তির ব্যবহার : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘যখন যেখানে শেখা’ এই সুবিধা বিস্তরণে মোবাইল এ্যাপস প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষা সুবিধা সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। ‘বাউবি ইনফো’, ই-বুক, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি ধরণের এ্যাপসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যখন যেখানে বসে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী তাঁর ল্যাপটপে, স্মার্টফোনে, ট্যাবে কিংবা কম্পিউটারে এই শিক্ষা সেবা নিতে পারবে। সর্বত্রই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এ শ্লোগানের আওতায় পর্যায়ক্রমে প্রতিটি প্রোগ্রামের এ্যাপস দেয়া হবে।

    BdREN এর মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম প্রবর্তন : বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহযোগিতায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভিডিও কনফারেন্সিং চালুর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই আঞ্চলিক কেন্দ্রে বসে মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগে সক্ষম হবে।

    মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা উজ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে গৃহিত উদ্যোগসমূহ : 

    মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা : 

    BOU Pic 03

    ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, অগণিত মা বোনের আত্মত্যাগ ও জাতির শ্রেষ্ঠ  সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বীরোচিত সংগ্রাম ও যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলার লক্ষ্যে আজকের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র ও নিরক্ষরতার অভিশাপ মুক্ত করে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিতে উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ধারণ ও উজ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উ›মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা গত ২৪ ফেব্রæয়ারী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক উদ্বোধন করেন।

    মুক্তিযোদ্ধাদের টিউটর (শিক্ষক) হিসেবে নিয়োগ : বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে ৩২টি একাডেমিক প্রোগ্রামে দেশব্যাপী প্রায় ছয় লক্ষ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে পঠন-পাঠন ও অনুশীলণের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের টিউটর হিসেবে (শিক্ষক) নিয়োগ প্রদানের এক যুগান্তকারী কর্মসূচী গ্রহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ : স্বাধীনতার মাত্র ৪ বছরের কম সময়ের মধ্যে কালোরাত্রিতে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সবাইকে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধারা হয়ে পড়ে অভিভাবক শূন্য। সদ্য স্বাধীন বাংলার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ও দর্শনকে মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে অসহায় করে ফেলে। যার ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই অর্থাভাবে ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চ শিক্ষা সুযোগ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় এবং পরিক্রমায় নিজ সন্তানদের কেউ দারিদ্রের কষাঘাতের কারণে প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদানের চরমভাবে ব্যর্থ হয়। এসবই নির্মম, নিষ্ঠুরতা ও ঐতিহাসিক চক্রান্তের ফসল। যে কারণে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশ সন্তানই অনেক নিম্নস্তরের পদের জন্য চাকুরীর আবেদন করেও ব্যর্থ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুক্তিযোদ্ধাদের মহান অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    ক্যাম্পাসের নৈসর্গিক সৌন্দর্য :

    BOU Pic 09

     ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ের কোল ঘেঁষে নয়নাভিরাম লাল সিরামিক সুরম্য একাধিক ভবনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক স্কুল/ফ্যাকাল্টি ও প্রশাসনিক বিভাগ। নারকেল বীথি ও বিভিন্ন বৃক্ষের বৈচিত্রের অপূর্ব সমাহার ক্যাম্পাস জুড়ে বিস্তৃত। বোগেনভেলিয়া, নয়নতারা, ঝুমকালতা, চন্দ্রমল্লিকা ও সমৃদ্ধ আম্রবাগান ক্যাম্পাসকে সবুজ শ্যামলিমায় ভরে দিয়েছে। বৃক্ষলতার ফাঁকে ফাঁকে গড়ে ওঠা অফিসগুলোতে রয়েছে চমৎকার কর্মপরিবেশ। উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য “স্বাধীনতা চিরন্তন” মাথা উচুঁ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পল্লবিত করে আছে। বিশালকায় মূল ফটকটি নান্দনিকতায় ক্যাম্পাসের বর্নাঢ্যতা ফুটিয়ে তুলেছে।

    বাউবি’র ৪র্থ সমাবর্তন : 

    BOU Pic 06

    দীর্ঘ ১ যুগ পর ২২ এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় ৭,০০০ হাজার গ্র্যাজুয়েট মূল ক্যাম্পাসে দিনভর অপর আনন্দে মেতে উঠে। সারা দেশ থেকে আসা গ্র্যাজুয়েট ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীগণ সমাবর্তন উৎসবে ক্যাম্পাসে বর্নাঢ্য সাজসজ্জায় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে এদিন সনদ গ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্বার্থকভাবে আয়োজনে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

    উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উপাচার্যের ভাবনা : 

    BOU VC Pic

    দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছরের মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এ মাননান এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ভার্চূয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখছেন। দীর্ঘ দিনের অধ্যাপনা, দেশ বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিজ্ঞ এ উপাচার্য, ইতোমধ্যেই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ছয় লক্ষ থেকে বাড়িয়ে দশ লক্ষে উন্নীত করার কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রামের দেশব্যাপী ১৬শত স্টাডি সেন্টারের ২৪ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আন্তর্জাতিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হচ্ছে যা শীঘ্রই চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পঠন-পাঠন ও অনুশীলনের জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের টিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদানের এক যুগান্তকারী কর্মসূচী গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অচিরেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তার প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ছয় লক্ষাধিক। শিক্ষক ঘাটতি নেই। তার মূল কারন আমরা সারাদেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। কর্মকর্তা ও কর্মচারী পর্যাপ্ত সংখ্যক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে গৃহিতব্য নতুন নতুন একাডেমিক প্রোগ্রাম যথা অন-লাইন মাস্টার্স ডিগ্রি, মিডিয়া ও জার্নালিজম বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন ও মাস্টার্স  ডিগ্রী, দুই বছর মেয়াদী এলএলবি প্রোগ্রাম এবং ধাত্রীবিদ্যায় ডিপ্লোমা প্রোগ্রামসহ অন্যান্য ই-লানির্ং ভিত্তিক প্রোগ্রামে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে।

    উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, সুনাম ও কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করার জন্য এবং বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার জন্য সরকারের তরফ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারী তহবিল হতে বাজেটের মাত্র ১৫% থেকে ১৬% বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে যা প্রয়োজনের তুলনায় একান্তই অপ্রতুল। ই-লানির্ং প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে আবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এছাড়াও ২০টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রকে পুরোপুরি ফাংশনাল করার জন্যও অর্থের প্রয়োজন।

    লেখক : সাংবাদিক।